জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রত্যেকটি মানুষের জীবন এখন রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত। এমনকি মৃত্যুর পরেও কারো কারো নাম উঠে আসে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়বস্তু হিসাবে। বলতে গেলে সমাজ, সংসার, ব্যবসায়, ধর্ম, প্রশাসন, রাষ্ট্র পরিচালনা ইত্যাদি এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে রাজনীতি প্রবেশ করেনি। কিন্তু, কেন এই রাজনীতি? নেতারা বলে থাকেন, রাজনীতি করি মানুষের জন্য, পরের স্বার্থে; ব্যবসায়ীরা বলেন, ব্যবসায় করি মানব কল্যাণে এবং নীতিনির্ধারক কর্মকর্তাগণ বলেন তারা জনগণের সেবক। আপাতদৃষ্টে মনে হয় আমরা সকলেই পরের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। বাস্তবে এই কথাগুলোর অন্তরালে থাকে আমাদের নিজের জীবন-জীবিকা, সাধ-আহ্লাদ আর স্বপ্ন পূরণের বাসনা। মোটকথা, সকল পেশাতেই এখন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যদি অন্যের স্বার্থেই সকলের রাজনীতি, চাকরি ও ব্যবসায় পরিচালিত হতো তাহলে চাকরিজীবী, নেতা কিংবা ব্যবসায়ীর পক্ষে এত অল্পসময়ে বিপুল অর্থবিত্ত সঞ্চয় করা সম্ভব হতো না। জনসেবা করতে করতে নিজের দিকে খেয়াল করতে পারেননি কিংবা মৃত্যুর পরে সরকারি অনুদান বা সাহায্য নিয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ চালাতে হয়েছে এমন দেশপ্রেমী, আত্মত্যাগী নেতা, কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীর নাম খুব একটা খুঁজে পাওয়া যাবে না বর্তমান যুগে। অথচ, জীবদ্দশাতেই তাদের সামঞ্জস্যহীন সম্পদের বিবরণ ও ভুল-ভ্রান্তির খতিয়ান জনগণ সংবাদপত্র কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে জেনে যায়। জনগণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কিছু করতে না পারলেও সরকারের একটা মহল নিশ্চয়ই এ সকল নীতিহীন ব্যক্তির কারণে বিব্রত বোধ করেন। ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিতের পার্থক্য যখন কমে আসে তখন মূল্যবোধের অভাবে সমাজে দুর্নীতি ও অপশাসন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে এবং কিছুকালের জন্যে হলেও জনগণের সামনে কোন বিকল্প থাকে না।
যারা রাজনীতি, ব্যবসায় অথবা প্রশাসন চালায় তারা যে ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত বিষয়ে অজ্ঞ তা বলা যাবে না। বাক্-বক্তৃতায়, জন্ম-মৃত্যু দিবসে, টকশোতে এবং ফিতাকাটা অনুষ্ঠানে কিছু নেতা ও প্রশাসক ন্যায়নীতির প্রতীক হিসাবে নিজেদেরকে উপস্থাপন করলেও তাদের চরিত্রের ধূসর অংশটি থেকে যায় রহস্যময়। জনগণের মঙ্গলের প্রশ্নটি সামনে এলে অবশ্যই ভাবতে হবে-কাদের মঙ্গলের জন্য? কতজনের মঙ্গলের জন্য? কতিপয় পড়শি বা নিজ গোত্রের অথবা দলের অনুসারীদের মঙ্গল সাধন কখনোই মানবতা ও গণতান্ত্রিক চেতনাপ্রসূত নয়। একের পর এক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডুবিয়ে, জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মেডেলের সোনা মেরে, রাজউকের প্লট গ্রাস করে, বনের গাছ কেটে, বনের ভূমি নিজের নামে লিখিয়ে, চুক্তিবদ্ধ খুন অথবা গুম করিয়ে, মাদক ও সোনার চোরাচালানি করে, চাঁদাবাজির মাধ্যমে জোঁকের মতো রক্ত শোষণ করে কেউ রক্ষা পেয়ে যাবে-এটা কি কোন সভ্য-গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? দেশের স্বার্থে, জনগণের মঙ্গলে, মানবতার স্বার্থে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন বজায় রাখার জন্য কোনিট উচিত আর কোনিট অনুচিত-এ সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব কার? আমাদের দেশে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন জনপ্রতিনিধি বা আইন প্রণেতাগণ। দেশে কেউ অন্যায় করে ন্যায়বিচার এড়িয়ে পার পেয়ে গেলে আমাদের আইন প্রণেতাগণের নিকট কেমন লাগে জানি না। একজন আইন প্রণেতা কিংবা সচিব পর্যায়ের কোন নমস্য ব্যক্তি যখন কোন অপরাধ করে কিংবা অপরাধ সংঘটনে জড়িত থেকে ক্ষমা পেয়ে যায় তখন দুই-একজন সহকর্মী অথবা সংসদ সদস্য তার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন এমন নজির কি আমাদের সামনে আছে? মানুষমাত্রই ভুল করে; সেটাই স্বাভাবিক। তাহলে, ভুল স্বীকার করে শাস্তি মাথা পেতে নেয়াটাও স্বাভাবিক হবে না কেন? আল্লাহতায়ালা প্রত্যেকটি মানুষকে আলাদা মন-মানসিকতা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একই চিন্তা-চেতনা দিয়ে পালে পালে বা একেক ব্র্যান্ডে সৃষ্টি করেননি। এমনও করা হয়নি যে অমুক বছর অমুক স্থানে জন্মগ্রহণকারীরা সবাই একই জিনিস পছন্দ করবে বা সমর্থন করবে। মানুষমাত্রই চিন্তার স্বাধীনতা, খাদ্যের স্বাধীনতা, পোশাকের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সঙ্গী নির্বাচনের স্বাধীনতা ভোগ করতে চাইবে। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতি মেরুকরণ হতে হতে এখন কোন দলের মধ্যেই সচরাচর ভিন্ন মতাবলম্বী পাওয়া যায় না। তৃতীয় বিশ্বের সংসদগুলোতে সম্মিলিত হাত উত্তোলনের সংস্কৃতি দেখে মনে হয় সবাই যেন শান্ত-সুবোধের দল। যে সকল ছেলেমেয়ে ছোটবেলা থেকে দুর্দান্ত প্রকৃতির, যারা বাবা-মায়ের, আত্মীয়-মুরব্বিদের মতের বাইরে যাওয়াকেই গর্বের মনে করতো কিংবা পরিবারের অবাধ্য হয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য ঘর ছেড়েছেন তারাও সংসদে এসে ভিন্ন কথা বলার সাহস সঞ্চয় করতে পারেন না। প্রাচীনকালে নেতাদের মাঝে সদগুণ বলতে প্রধানত সাহসিকতা, মধ্যপন্থা (স্বাভাবিকতা) এবং ন্যায়নিষ্ঠাকে বোঝানো হতো। আধুনিককালে নেতৃত্বের মাঝে নৈতিকতা বলতে বোঝানো হয় ভাল (সঠিক) এবং খারাপ (ভুল) বিষয়সমূহের মাঝে পার্থক্য ও পৃথকীকরণ।
বর্তমান গণতান্ত্রিক পন্থায় জনপ্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হবার জন্য প্রার্থীকে ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে যেতে হয়। জনগণকে ভাষা দিয়ে, আশা দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে অন্য প্রার্থীর চেয়ে নিজেকে যোগ্যতর প্রমাণ করতে হয়। নির্বাচিত হবার পর-পরই ভোটারগণ আসতে থাকেন একের পর এক ন্যায্য-অন্যায্য আব্দার নিয়ে। বিভিন্ন সামাজিক বিরোধের মীমাংসা, ছেলে-মেয়ে আত্মীয়ের চাকরির তদবির, বিদেশে পাঠানোর তদবির, বিভিন্ন ধরনের ঠিকাদারী, আমদানি-রফতানির লাইসেন্সের তদবির, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির তদবির, বিদেশি টাকায় প্রজেক্ট চালু করার তদবির, ব্যাংক থেকে ব্যবসার নামে ঋণ নেয়ার তদবির ইত্যাদি। স্বাভাবিক যোগ্যতার ভিত্তিতে কোন সুযোগ-সুবিধা পেতে কারো সুপারিশ লাগে না। তবে অধিকাংশ সুপারিশের ক্ষেত্রেই প্রার্থীর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকে না। তারা বরং উল্টোভাবেই নেতাকে বলে থাকে, যদি যোগ্যতাই থাকবে তাহলে আর আপনার কাছে আসলাম কেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে নিবিড়ভাবে কাজ করতে গিয়ে ভোটারদের সাথে যে ভালবাসা জন্মায় সেই অধিকার নিয়েই নেতার কাছে আসে। একদিকে ন্যায়-অন্যায়, নীতি-আদর্শ, উচিত-অনুচিত আর অন্যদিকে পোড়খাওয়া-ত্যাগী কর্মীদের ভালবাসা-এই দুইয়ের টানাপড়েনে পড়ে নেতা তখন দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তবে যারা ভোটারের কাছে না গিয়ে অথবা টেকনোক্র্যাট উপদেষ্টা হিসাবে সরকারের অংশ হয়ে যায় তাদের বেলায় গণসমর্থনের তোয়াক্কা না করে নিয়ম অনুযায়ী উচিত সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে অনুচিত দাবি অগ্রাহ্য করে দেয়া সম্ভব। কিন্তু একজন ভোটনির্ভর জনপ্রতিনিধি সহজে তার ভোটব্যাঙ্কের বিপরীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। কারণ, ঐ মানুষগুলোই দলবেঁধে ভোট দিয়ে তাকে ক্ষমতাবান করে। তাই সে অবৈধ বস্তি স্থাপন, ফুটপাত ব্যবসায়, রাস্তার গরুর হাট বসানো, সরকারি ভূমি দখল, এলাকাভিত্তিক মাস্তানি, চাঁদাবাজি ও আদম বেপারীদের ক্ষেত্রে কঠোর হতে পারে না। এ কারণেই উচ্চাভিলাষী নির্বাচনী ওয়াদা অনেক সময়ে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এবং নেতার নিরপেক্ষ গঠনমূলক স্বপ্ন বাস্তবায়নে অন্তরায় হয়ে দেখা দেয়। এমনিতেই বস্তুতান্ত্রিক আদর্শনির্ভর রাষ্ট্রে নৈতিকতা, আদর্শ, সামাজিক ন্যায়বিচার ইত্যাদির ক্ষেত্রে গোষ্ঠী চেতনার ওপর প্রাধান্য দিতে হয়। বস্তুতন্ত্রবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতি একে অপরের পরিপূরক। বস্তুতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিভিন্ন দল পরস্পরের প্রতি প্রতিযোগিতামূলক আচরণ করে এবং তা সময়ে সময়ে সাংঘর্ষিক পর্যায়ে চলে যায়। সেখানে ক্ষমতায় টিকে থাকার পরিকল্পনা মাথায় রেখে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা নির্ধারিত হয় এবং সার্বিক জনকল্যাণ অবহেলিত হয়ে গৌণ পর্যায়ে নেমে যায়।
যুদ্ধ বিগ্রহের সাথে মিথ্যা ও ছলনার (deception) সম্পর্ক চিরন্তন। যুদ্ধক্ষেত্রে ন্যায়-অন্যায় যেভাবেই হোক, জয়লাভ করাটাই প্রধান লক্ষ্য। সেখানে সবকিছুকেই ‘মাইট ইজ রাইট’ নীতিতে বৈধ করে নেয়া হয়। বর্তমানে কোন-কোন দেশের নির্বাচনও যুদ্ধের পর্যায়ভুক্ত হয়ে গেছে। কর্পোরেট চেতনায় এখন রাজনীতি বা জনসেবার ক্ষেত্রে মিথ্যা, চালাকি, ধূর্তামি, কপটতা, ভাঁওতা ও প্রতারণা ইত্যাদি আর নতুন কিছু নয়। মিথ্যা এবং চালাকির ওপর ভিত্তি করেই এখন অনেক নেতা তাদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। উচ্চপর্যায়ে সততার চেয়েও অন্যান্য গুণাবলীর ওপর অধিক প্রাধান্য দেয়ার ফলে সমাজের ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত দুর্নীতি জেঁকে বসেছে। আদব-কায়দা নয় বরং নিজের বড়ভাই বা পিতা-মাতার বয়েসী কাউকে অবলীলায় গালি দিয়ে অপমান করার মানসিকতাসম্পন্ন তরুণ নেতাদের কদর আজ বেড়ে গেছে রাজনীতিতে। ধারণাটা এরকম যে, দুর্দান্ত সাহসী না হলে, প্রচুর অর্থ না থাকলে, ব্যবসায় না থাকলে কেউ কি সাধারণ মানুষের সেবা করতে পারবে? এজন্য চাই অনেক গুণে গুণান্বিত রিসোর্সফুল ধনাঢ্য ব্যক্তি। কমপক্ষে কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান, আমদানি-রফতানি লাইসেন্স, বেসরকারি ব্যাংক-বীমা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল, হোটেল, এয়ারলাইন্স, পরিবহন কোম্পানি, লঞ্চ-ট্রলার-জাহাজ, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়, ইটের ভাটা, মাছের ঘের, চা বাগান, পাহাড় অথবা বিপুল ভূ-সম্পত্তি না থাকলে কি আর জনসেবক হওয়া যায়? সর্বোচ্চ নেতা বা প্রশাসকগণ এ সকল ধারী-ভারী জনসেবকের পক্ষে ঘটে যাওয়া অপরাধকে সামান্য ক্ষতি বা ছোটখাট অপরাধ হিসাবে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে মার্জনা করে দেন। তবে অন্য দলের, ভিন্ন মতাদর্শীর ক্ষেত্রে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠায় তারা বদ্ধপরিকর।
সত্যিকার অর্থে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা একজন প্রতিনিধির জন্য তার দায়িত্ব পালন করাটা বেশ কঠিন। আমাদের এই সমস্যাসংকুল দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় এত বেশি সমস্যা ও কাজ পড়ে রয়েছে যেগুলোর প্রতি মনোযোগ দিলে একজন এমপির পক্ষে বিশ্রাম নেয়ার মত কোন সময় থাকে না। এমপি হিসাবে এক-দুই মেয়াদের জন্য গুরুদায়িত্ব পালন করার পর তাদের ক্লান্তি এসে যাবার কথা। ইচ্ছা করলে তারা মাঝে এক-দুই মেয়াদের জন্য বিরতিও দিতে পারেন। বরং তাতে একটু বিশ্রাম হবে এবং জনগণ তার শূন্যতা উপলব্ধি করতে পারবে। এতে নতুনরাও এগিয়ে আসার জায়গা পাবে। কিন্তু বাস্তবে তৃতীয় বিশ্বের নেতাদের অনেক বেশি পরিশ্রমী ও এনার্জেটিক মনে হয়। তারা আমৃত্যু নিরবচ্ছিন্ন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে ভালবাসেন। সরকারের অতি উচ্চপর্যায়ে কিছু মেধাবী, সত্, নীতিবান, লোভ-লালসাহীন, নিরপেক্ষ, স্পষ্টবাদী লোক থাকা দরকার। সেখানে আত্মীয়তা, রক্তের সম্পর্ক, দলীয় সমর্থক কিংবা পোড়খাওয়া কর্মীদের ছাড় দেয়া উচিত নয়। কারণ, জনসেবা ও মানবতাবাদের প্রধান লক্ষ্য হল সকল মানুষ এবং পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য কাজ করা। সব মিলিয়ে একজন নীতিবান, জ্ঞানী, বিচক্ষণ, দেশপ্রেমিক এবং মানুষ চেনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্ণধার পাওয়া গেলে দেশ ও মানুষের অবস্থার উন্নয়ন কঠিন কিছু নয়। জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে বাস্তবতার নিরিখে উচিত-অনুচিত এবং ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য তাকে বুঝতে হবে। ঐ লেভেলের নেতাদের জন্য দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা-না-থাকায় কিছু যায় আসে না—তারা থাকেন জনগণের হূদয়ে।
n
