এ দিকে, বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও) খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) লাগবে— পুঁজিবাজারে এমন খবরে বিনিয়োগকারীরা ভীত। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নিয়ম চালু করেনি। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন— টিআইএন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং সবারই টিআইএন থাকা উচিত। কারণ, টিআইএন না থাকলে লভ্যাংশের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। আর থাকলে ১০ শতাংশ দিতে হবে। এ দিকে, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই পাওয়ার কোম্পানির (ডেসকো) শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারটি চাঙা হয়েছে। লভ্যাংশ ঘোষণার পর ৩ দিন শেয়ারটির দর ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ দিন জ্বালানি খাতের আরো ২ কোম্পানি শীর্ষ দশে উঠে এসেছে। একটি হলো ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস। একপর্যায়ে শেয়ারটি বিক্রেতা-শূন্য হয়ে পড়ে। বিদ্যুত্ খাতের আরেক কোম্পানি পাওয়ার গ্রিডও দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষ দশের মধ্যে ছিল।
শেয়ারবাজারে বৃহস্পতিবার বেশির ভাগ কোম্পানির দর কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেন। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে টানা দর বৃদ্ধির পর এখন মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতার কারণেই শেয়ারবাজারের সূচক কমে যাচ্ছে। এ ধরনের দর সংশোধন বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে— বাজারে ৫৫টি কোম্পানির দর পরিবর্তন হয়েছে ৩ শতাংশেরও বেশি। তবে সূচকের পতনের মধ্যেও বেশির ভাগ কোম্পানির দর বেড়েছে জ্বালানি খাতের। এ কোম্পানিগুলোর দর বেড়েছে প্রায় দেড় শতাংশ।
তথ্যে দেখা গেছে, আজ ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ২৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএস-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৮১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৬০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কম। লেনদেনকৃত ৩০৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ১৮৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টি কোম্পানির শেয়ারের।
অপর দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ৮০ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ৩০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ৪ কোটি টাকা কম। লেনদেনকৃত ২২৫টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৫১টির কমেছে ১৫৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টি কোম্পানির শেয়ারের।
