এসেছিলেন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য। কিন্তু সেই আশা তো পূরণ হলোই না উল্টো বরের বেশ ছেড়ে লুঙ্গি পড়ে দৌড়ে পালাতে হলো তাকে। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের উলিপুরে।
বিয়ে বাড়িতে কনের গায়ে হলুদ, আত্মীয়-স্বজনদের জন্য খাবার প্রস্তুত। কনে পক্ষের অনেকেই দুপুরের খাওয়া শেষে চলে গেছেন। কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের জন্য। বিকেলে বর আসবে, এজন্য সবাই অপেক্ষা করছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বিয়ে বাড়ীতে শুমসাম নিরবতা। খবর আসে এ বাল্য বিয়ে বন্ধে যে কোনো মুহুর্তে পুলিশি অভিযান শুরু হবে। এজন্য উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়তে থাকে সবার মাঝে। বর আসবে তো? অবশেষে সন্ধ্যায় বর আসলেন। আবার দৌড়ঝাপ শুরু হলো। ব্যস্ততা বেড়ে গেল সবার মাঝে। মুহুর্তে খবর এলো পুলিশ আসছে। খবর পেয়ে বর পক্ষের লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। বরও তার পোশাক পাল্টিয়ে লুঙ্গি পড়ে তিস্তা নদী অভিমুখে পালিয়ে যায়। গত বুধবার সন্ধ্যায় জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের সাদুয়া দামার হাট গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
পরে উলিপুর থানার এসআই ফারুকী একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাল্যবিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সহস্রাধিক মানুষের সামনে কনের পিতা ও কনের কাছ থেকে বাল্যবিয়ে না দেয়ার মুছলেকা নিয়ে আসেন। জানা গেছে, ঐ গ্রামের সফিকুল ইসলামের কন্যা রাজবল্লভ দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শেফালীর সাথে উলিপুর পৌরসভার রাজারাম ক্ষেত্রী নাগদারপাড় গ্রামের মানিক মিয়ার পুত্র সুজা মিয়ার বিয়ে ঠিক হয়। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় এনজিও এমজেএসকেএস’র প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও প্রশাসনের তৎপরতায় বাল্যবিয়ে ভেস্তে যায়। বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় শেফালী।
অভিযোগ রয়েছে, বরপক্ষ শিশুকন্যাকে বিয়ে করতে নির্দিষ্ট পরিমানের যৌতুকের অগ্রিম ২০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়।
