কৈলাশটিলার নতুন গ্যাসকূপে দৈনিক ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৪, ২১:৩৪
 
 
 
 
পেট্রোবাংলা সিলেটে আরো একটি নতুন গ্যাস কূপের খনন কাজ শুরু করেছে শুক্রবার থেকে। গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের ৭ নং কূপের খনন কাজের উদ্ভোধন করেন পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর। বিকালে এই কূপ খনন কাজের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বলেন— এটি একটি সম্ভাবনাময় কূপ।
পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বলেন, রিগ স্থাপন প্রক্রিয়াসহ নানা কারণে খনন কাজ শুরু হতে দেরি হলেও নির্ধারিত সময় আগামী ৩ মাসের মধ্যে এর কাজ শেষ হয়ে যাবে। এই কূপ খননে ২১৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়। উল্লেখ্য, গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
কূপটির খনন কাজ শেষ হলে এখান থেকে দৈনিক ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তলিত হবে। আর এই কূপ থেকে সিলেট হয়ে তা জাতীয় গ্রিড লাইনে সরবরাহ করা হবে।
২০০ কোটি টাকা ব্যায়ে আগামী ৩ মাসের মধ্যে খনন কাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। ধারণা, করা হচ্ছে এই গ্যাসের সাথে অপরিশোধিত অন্তত দৈনিক আরো ৫০০ ব্যারেল তেল উত্তোলন করা যেতে পারে বলে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হারুনূর রশিদ জানান। পেট্রোবাংলার অধীনস্থ বাপেক্স এই খনন কাজের দায়িত্বে রয়েছে।
এই কূপটি থেকে দৈনিক যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে— তাতে দেশের বিরাজমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ দিকে, এর আগে গত আগস্ট মাসে সিলেটের রশিদপুরের ৮ নং গ্যাস ফিল্ডের কূপ থেকে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কূপ খনন প্রকল্পের কাজটিও পেট্রোবাংলা সফল ভাবে সম্পন্ন করে। বিগত জুন মাসে ৮ নং কূপে খনন কাজ শুরু করে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। এটি বাস্তবায়নে এক শত ৫০ কোটি টাকা ব্যায় হয়।
সূত্র মতে দেশের গ্যাস উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায়, ‘অগমেন্টেশন অব গ্যাস প্রোডাকশন আন্ডার ফাস্ট ট্র্যাক প্রোগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডে ২০১০ সালে সমপাদিত ত্রি-মাত্রিক ভূকম্পন জরিপের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে রশিদপুর-৮ নং কূপের খনন কাজটি রাশিয়ান কোম্পানি ‘গ্যাজপ্রম ইন্টারন্যাশনাল’ গত ৪ জুন শুরু হয়। ২ হাজার ৯৯০ মিটার গভীরতার এ কূপটির খনন কাজ, কূপ পরীক্ষণসহ আনুসাঙ্গিক কাজ মোট ৬৫ দিনে হয়। কূপ পরীক্ষণকালে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উত্পাদিত হয়েছে বলে জানান সংস্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা জানান বিগত ২৭ আগস্ট কূপটি থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গ্যাস উত্পাদন শুরু হয় এবং উত্পাদিত গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ প্লান্টে প্রসেসিং করে উত্তর-দক্ষিণ গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন এ ভাবে সরবরাহ হচ্ছে।