কাউনিয়ায় দশ দিনে শতাধিক বিয়ে

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৪, ০০:৪৮

মাস জুড়ে যেখানে ৫০টা বিয়ে করা সম্ভব হয় না সেখানে শুধু ঈদের আগে এবং পরে দশ দিনে সম্পন্ন হয়েছে প্রায় শতাধিক বিয়ে। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশই বাল্যবিয়ে। আর এরমধ্যে তালাক হয়েছে প্রায় দশটি।

গত ১ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেপামধুপুর ইউনিয়নে ১৭টি, বালাপাড়া ইউনিয়নে ১৭টি, কুর্শা ইউনিয়নে ১৬টি, হারাগাছ ইউনিয়নে ১২টি, সারাই ইউনিয়নে ১৫টি, শহীদবাগ ইউনিয়নে ১৯টি এবং হারাগাছ পৌরসভায় ২০টি বিয়ে হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বিয়েগুলোর অধিকাংশই বাল্যবিয়ে।
ঈদের সময় ঢাকা বা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মজীবি ছেলেমেয়েরা আসেন গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে। বাড়িতে এসেই পড়েন অভিভাবকদের চাপের মুখে। এক্ষেত্রে যদি কোন মেয়ের বয়স কম হয় তাহলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জন্মবিন্ধন সংশোধন করে বিয়ে দিয়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিকাহ রেজিষ্টার বলেন, আগের দিন মেয়ের বয়স ১৫বছর হওয়ায় বিয়ে না রেজিষ্টার করে ফিরে আসি, পরের দিন বিয়ের বয়স পেড়িয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে বন্ধে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বারগনের স্বদিচ্ছাই যথেষ্ট। আরেকজন রেজিষ্টার বলেন, বয়স কম হওয়ার জন্য আমরা যে বিয়ে নিবন্ধন করি না, কোর্টে গিয়ে বা বয়স বাড়িয়ে সেই বিয়ে হচ্ছে রীতিমতো। কাজীরা বলেন যদি বিয়ের বয়স যদি ১৮বছর হয় তাহলে জন্মনিবন্ধনের পাশাপাশি ভোটার আইডি কার্ডের নিয়ম থাকলে বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব।

এক মেয়ের অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তার মেয়ের বিয়ের পাত্র ছেলেটি ঢাকায় থাকে, অনেক টাকা বেতন পায়। এবছর বিয়ে না দিলে ছেলে অন্য জায়গায় বিয়ে করে ফেলবে। এমন ছেলে হাতছাড়া করলে ছেলে পাবো কোথায়? বয়স দিয়ে কি হবে? মেয়ের সুখেই সুখ। তাই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে জামাই সহ ঢাকায় পাঠিয়েছি।