সিলেটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৪, ১৩:৩৮
 
 
পাঁচ দফা দাবিতে সিলেটে রবিবার সকাল ছয়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন পালন করছে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। ধর্মঘটের কারণে কোনো দূরপাল্লার কোন বাস-মিনিবাস ছেড়ে যাচ্ছে না। এ কারণে দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক জানান, সিলেট জেলায় শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। শ্রমিকরা বিভিন্ন পয়েন্টে পিকেটিং করছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
পাঁচদফার মধ্যে রয়েছে-সিএনজি অটোরিকশার সামনের অংশে গ্রিল স্থাপন,  পুলিশি হয়রানি বন্ধ, শায়েস্তাগঞ্জের পরিবর্তে সিলেটে হাইওয়ে পুলিশের দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তি, সিলেট-তামাবিল সড়ক সংস্কার এবং বিআরটিএ অফিসে দুর্নীতি বন্ধ।
এদিকে ট্রেনে টিকেট সংকটের কারণে ট্রেনেও যেতে পারছেন যাত্রীরা। এর মধ্যে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে প্রাইভেট যানবাহনের ওপরও। তারাও ভয়ে গাড়ি বের করছেন না। শহরেও সিএনজি অটোরিকশা চলাচল কম। তবে দূরের পথে সিএনজি অটোরিকশা ছেড়ে যাচ্ছে না।
দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও উত্তর সুরমা কুমারগাও টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায় সেখানে সব বাস দাঁড়িয়ে আছে। বেশ কিছু যাত্রী এদিক সেদিক ঘোরঘুরি করছে কখন ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে এই আশায়।
সিলেট জেলা অটোটে¤েপা ও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: জাকারিয়া জানান, ধর্মঘটে সিএনজি অটোরিকশা যথারীতি চলাচল করবে। কেউ বাধা দিলে প্রতিহত করা হবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, ধর্মঘট চলাকালে তারা কোথাও ভাঙচুরের খবর পাননি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে। 
এদিকে শনিবার দুপুরে সিএনজি অটোরিকশাও বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর গভীর রাতে নগরীর কদমতলীতে বাস ও সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে পাঁচপুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ দুইজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নয় জনকে রাতেই আটক করা হয়েছে বলে দণি সুরমা ফাঁড়ির পুলিশ জানায়।