বেনাপোল পর্যটন মোটেল থেকে বৃহস্পতিবার রাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ মোটেল কক্ষ থেকে তার বান্ধবীসহ ৫ জনকে আটক করেছে। ওইদিন রাত ১০টার দিকে পর্যটন মোটেল থেকে থানায় খবর দিলে মোটেলের দোতলার নিচ থেকে সুমনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সুমন বেনাপোল পোর্ট থানার ভবারবেড় গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে।
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে সুমন মোটেলের ২০৭ নম্বর রুমটি ভাড়া নেয়। রেজিস্ট্রার খাতায় তার স্ত্রীর পরিচয়ে নাম লেখানো হয় জুঁই নামে তার এ বান্ধবীকে। রাত ১০টার দিকে দোতলার নিচ থেকে সুমনের লাশ উদ্ধার করে তার কক্ষ থেকে আটক করা হয় বান্ধবী জুঁই ও মোটেল ম্যানেজারসহ ৪ জনকে। এ সময় তাদের পাশের রুমে থাকা বিউটি নামে অপর এক তরুণী পালিয়ে যান। পরে তার লাশ উদ্ধার করে রাতেই ময়না তদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। শুক্রবার সকালে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের পর মোটেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে ছেড়ে দেয়া হয়।
আটক জুঁই জানান,তার নাম নীলা। মোটেল রেজিস্ট্রারে তার ছদ্ম নাম দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কলগার্ল হিসাবে বিভিন্ন জায়গায় যান। সে সূত্রে সুমনের সাথে তার পরিচয়। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে মোটেলে ওঠে সুমন। রাত ৮টার দিকে নীলা বাড়ি যেতে চাইলে বাধা দেন সুমন। কথা কাটাকাটির এক পর্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্যায়ে পাশের রুমে থাকা কলগার্ল বিউটি রুম থেকে বেরিয়ে এসে সুমনকে ধমক দেয়। পরে বিউটি তার কয়েকজন বয়ফ্রেন্ডকে খবর দিয়ে রুমে নিয়ে আসে। এসময় নীলা মোটেলের অভ্যর্থনা রুমে নেমে আসে। পরে রাত ১০টার সময় সুমনের লাশ মোটেলের নিচে পাওয়া যায়।
নিহতের পিতা মমিন উদ্দিন অভিযোগ করে বলেছেন, কে বা কারা তার সন্তানকে হত্যা করে মোটেলের দোতলা থেকে নিছে ফেলে দিয়েছে।
নিহতের চাচা আব্দুস সালাম জানান, তার ভাতিজা সুমনের কোন শত্রু নেই। ট্যাক্সি চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করে। মোটেলে থাকা যাত্রীদের সে আনা নেয়া করে। তবে সুমনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নিহত সুমনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম জানান, তার স্বামী কোনো অপরাথের সাথে জড়িত নয়। কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো? সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেন। বেনাপোল পর্যটন মোটেলের ইউনিট ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, নিহত সুমনকে আমরা চিনি। সে প্রায়ই মোটেলে যাতায়াত করতো। তাকে হত্যা করা হয়েছে না কী সে আত্মহত্যা করেছে তা আমার জানা নেই।
বেনাপোল পোর্ট থানার পরিদর্শক অপূর্ব হাসান জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোন কিছু বলা সম্ভব নয়।
