ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও ভর্তুকি ও ঋণ ব্যবস্থা না থাকায় এর আবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে না। যেটুকু জমিতে চা বাগান রয়েছে তাও বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী ভাঙনে। এজন্য চা চাষিরা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অসহযোগিতাকে দায়ী করছেন।
পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ড ১৯৯৯ সালে জেলার সদর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমিকে চা চাষের উপযোগী চিহ্নিত করে। কিন্তু গত ১৪ বছরেও ঐ পরিমাণ জমিতে চা চাষ শুরু করা যায়নি। ২০০৭ সালে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ও কান্তিভিটা সীমান্ত এলাকায় অ্যামিন্টে টি স্টেট নামে একটি প্রতিষ্ঠান মাত্র ১২ একর জমিতে চা চাষ শুরু করে। দুই বছর আগে ঐ বাগানটি গ্রিন ফিল্ড টি স্টেট নামে একটি কোম্পানি কিনে নেয় এবং এ বছর থেকেই তারা চাষাবাদ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়।
এছাড়া ঐ এলাকায় গত বছর আরো চার জন ক্ষুদ্র চাষি সাড়ে চার হেক্টর জমিতে চা সম্প্রসারণের কাজ শুরু করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা না করায় তারা চা চাষ করতে পারছেন না। ধনতলা সীমান্তের দীঘলবস্তি গ্রামের ক্ষুদ্র চা চাষি সহর উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, গত বছর এক বিঘা জমিতে চাষ চাষ শুরু করেছি। কিন্তু চা চাষে চারা বাবদ চা বোর্ডের ভর্তুকির টাকা দেয়ার কথা থাকলেও আজো পাইনি সেই টাকা। ঐ গ্রামের ক্ষুদ্র চাষি দবিরুল ইসলাম বলেন, ভর্তুকির টাকাতো নেই। চা চাষ সম্প্রসারণ করতে ব্যাংক থেকেও কোনো ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না।
পার্শ্ববর্তী জেলা পঞ্চগড়ে ব্যাপক হারে চায়ের আবাদ হলেও ঠাকুরগাঁওয়ে তার উল্টো। চাষিরা অভিযোগ করেন, এখানকার ক্ষুদ্র চাষিরা ব্যাংক ঋণ ও ভর্তুকির টাকা আজো পাননি। এতে চা চাষে আগ্রহীরাও পিছিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সীমান্ত ঘেঁষা নাগর নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে চা বাগানগুলো। গ্রিন ফিল্ড টি স্টেটের ম্যানেজার ইব্রাহীম খলিল সবুজ জানান, গত কয়েক বছরে প্রায় এক একর জমির চা বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে চা বাগান ও চাষিরা। ভাঙন রোধ করতে না পারায় চা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে।
চা চাষি মকবুল হেসেন বলেন, চা বাগানের সাথেই নাগর নদী। প্রতি বছরই ভাঙ্গছে। কিন্তু চা বোর্ড কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন রোধে কোন পদক্ষেপই নিচ্ছেন না। এতে হুমকির মুখে রয়েছে অনেক চা বাগান।
আগ্রহী চা চাষি আব্দুস সামাদ বলেন, দেড় বিঘা জমি তৈরি করছি চা চাষের জন্য। কিন্তু ভর্তুকির টাকা, ব্যাংক ঋণ না পাওয়া আর নদী ভাঙনে সেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।
চা চাষিরা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে চায়ের আবাদ সম্প্রসারিত হলে চাষিদের ভাগ্য খুলবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে চা রফতানি করে অর্জিত হতে পারে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।
পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আমির হোসেন ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষ সম্প্রসারণে এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে নানা উদ্যোগের কথা জানালেন।
