সিলেটে পাহাড় কেটে উজাড় করছে প্রভাবশালীরা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৪, ০০:৩২

সিলেটের বিয়ানীবাজার, বড়লেখা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার পাহাড়, টিলা কেটে উজাড় করে দিয়েছে প্রভাবশালীরা। গত এক যুগে এখানকার তিন শ’র বেশি পাহাড়, টিলা সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে কেটে সমান করা হয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই কাটা হয়েছে আবাসিক প্রকল্প, বাণিজ্যিক মার্কেট কিংবা ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি তৈরির জন্য।

জানা যায়, একশ্রেণির অসাধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব পাহাড় টিলা কেটেছেন। সূত্র জানায়, হয়রানির ভয়ে ভীত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্ট লোকজন নির্বিচারে পাহাড় কাটছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা সরকারি বা শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় কর্তৃপক্ষ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

এদিকে জমির দামের উর্ধ্বগতি অনেককে প্রলুব্ধ করছে পাহাড় কেটে সমান করে বিক্রি করতে অথবা হাউজিং ব্যবসা ও বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ করতে। সামান্যসংখ্যক সচেতন মানুষ এবং এনজিও ছাড়া তেমন কেউ পাহাড় কাটার কোন প্রতিবাদও করছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মধ্যে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে কিছু লোককে আটক করেছে। তবে তাদের অধিকাংশই নিরীহ দিনমজুর অথবা ট্রাকচালক ও শ্রমিক। কিন্তু আসল অপরাধীরা থেকে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে উপজেলায় পরিবেশ পরিস্থিতি হুমকির মুখে পড়েছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণে একটি টিলায় বৃহত্ আকারের ফাটল ধরলে স্থানীয়ভাবে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ইফতেখার আহমদ চৌধুরী সে সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এই তিন উপজেলায় পাহাড় কাটার বিষয়ে অবগত থাকলেও স্থানীয়ভাবে এর কোন প্রভাব পড়ছে না। পাহাড় কাটা প্রসঙ্গে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিদের তদবিরের কারণে পাহাড় কাটা বন্ধে আমরা যথেষ্ট তত্পর হতে পারি না।