প্রতীক্ষার জয় এনে দিলেন তাইজুল

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৪, ১০:৪৩

তাইজুলের পুল শট বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করতেই উল্লাস শুরু হয়ে গেল গ্যালারিতে। তাইজুলও লাফ দিয়ে উঠে উদযাপন করলেন। অন্য প্রান্তে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম সামান্য উদযাপন করেই আলতো ভঙ্গিতে তুলে নিলেন স্ট্যাম্প। হেঁটে গিয়ে স্ট্যাম্পটা তুলে দিলেন তাইজুল ইসলামের হাতে— এই স্ট্যাম্প তার হাতেই মানায়!
হ্যাঁ, সর্বার্থে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে অনেক অপেক্ষার পর একটি জয় এনে দিলেন তাইজুল ইসলাম। একেবারে শেষ বেলায় হারতে বসা ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাইজুলের ওপর ভর করেই ৩ উইকেটের এক জয় পেল গতকাল মুশফিকুর রহিমের দল। মাত্র ১০১ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে কোনো রান না তুলেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৩৩.৩ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছায়। তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিতে সিরিজ জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। শুধু টেস্টের বিচারে ১৯ মাস পর একটি জয় পেল বাংলাদেশ। আর সব ধরনের ম্যাচ মেলালে ১১ মাস পর কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে যে কোনো ফরম্যাটে জয় পেল।
অথচ এতো প্রতীক্ষার এই জয়টা আসতে পারতো অনেক দাপটের সঙ্গে। তেমনই ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন দেশের রেকর্ড গড়ে ফেলা তাইজুল ইসলাম। বিনা উইকেটে ৫ রান নিয়ে গতকাল দিনের খেলা শুরু করেছিল জিম্বাবুয়ে; তখনও তারা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৯ রানে পিছিয়ে। কিন্তু এই ৯ রান অতিক্রম করে নিজেরা আর ৫ রানে এগিয়ে যেতেই প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুইয়ানরা; সিবান্দাকে ফেরান তাইজুল।
তখনও বোঝা যায়নি কী জাদু অপেক্ষা করছিল তাইজুলের হাতে! এরপর প্রথম সেশন ধরে তাইজুলের ঘূর্ণি বলে রীতিমতো হিমশিম খেলো জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। মাঝে শাহাদাত ও সাকিব ১টি করে উইকেট নিলেন। জিম্বাবুয়ের বাকী ৮টি উইকেটই তুলে নিলেন তাইজুল ৩৯ রানের বিনিময়ে। এই ভয়ানক বোলিং পারফরম্যান্সের ভেতর দিয়ে সাকিবকে ছাপিয়ে দেশের সেরা বোলিং ফিগারেরও মালিক হয়ে গেলেন তাইজুল।
তাইজুলের এই জাদুদে হতভম্ব জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক টেলর একপ্রান্তে ৪৫ রানে অপরাজিত থেকে শুধু দেখলেন সতীর্থদের যাওয়া-আসা। জিম্বাবুয়ে অলআউট হয়ে গেল ১১৪ রানে। ফলে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ালো মাত্র ১০১ রান।
এই ‘মাত্র’কে পর্বত সমান বানিয়ে ফেললেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। মরা এই উইকেটে সামান্য মেঘলা আবহাওয়ায় জিম্বাবুয়ের তিন পেসার চিগুম্বুরা, পানায়াঙ্গারা ও চাতারা যেন হয়ে উঠলেন অপ্রতিরোধ্য। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই রানের খাতা খোলার সুযোগ পেলেন না। দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান ওঠার আগেই ফিরে গেলেন তামিম, সামসুর ও মুমিনুল। এরপর মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব একটু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু স্কোরবোর্ডে ৪৬ রান উঠতে সাকিবও ফিরলেন ১৫ রান করে। আবার ১৬ রানের একটা জুটি করলেন মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক। তখন পর্যন্ত ম্যাচ বাংলাদেশের হাতেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু দলীয় ৬২ রানে ২৮ রান করা রিয়াদ ও কোনো রান না করেই শুভাগত আউট হলে আবার আতঙ্কটা তৈরি হয়।
এরপর আসতে থাকা টেল এন্ডারদের যেভাবে আগলে রাখা উচিত ছিল, তাও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম করলেন না। ফলে দুই বোলার শাহাদাত ও তাইজুলকেই বেশি বেশি বল খেলতে হল। এর মধ্যে শাহাদাত একটি চার ও একটি ছয় মেরে অনেকটা এগিয়ে দিলেন দলকে। আর শেষটা নিয়তি যেন তাইজুলের জন্যই তুলে রেখেছিল। মুশফিক থাকা অবস্থায়ও তাইজুলই বেশি বল খেলে দলকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়ে তবেই মাঠ ছাড়লেন।
ম্যাচশেষে মুশফিক ২৩ রানে এবং তাইজুল ১৫ রানে অপরাজিত রইলেন।