গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রায় চার মাস পর পুনরায় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নির্যাতিতা কলেজ ছাত্রীকে থানায় হাজির হতে নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। ময়মনসিংহের নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষর করা নোটিসটি গত ১৪ অক্টোবর বাদির বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। বিচারের অপেক্ষায় থাকা ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা এ ধরনের নোটিস পেয়ে হতবাক হয়ে গেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আগের পরীক্ষায় একটি বিষয় স্পষ্ট না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ধর্ষিতাকে দ্বিতীয়বার ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর জন্য নোটিস দেয়া হয়েছে।
মামলার বাদি ওই ছাত্রীর বাবা জানান, এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার দু’দিন পর গত ১০ জুন তার মেয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়। ওই ঘটনার ভিডিও চিত্র এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তিনি গত ২৪ জুন থানায় একটি এজাহার জমা দেন। পুলিশ নির্যাতিতা ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে এজাহারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনের বিভিন্ন ধারা যুক্ত করে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। পরে বিচারিক হাকিমের আদালতে জবানবন্দি প্রদানের সময় মেয়েটি নির্যাতনকারীদের নাম প্রকাশ করে। সে সময় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। এরপর সে লজ্জায় গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে ঢাকায় চলে যায়। এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে সে জিপিএ ৩.৭৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। মেয়েটি বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে।
এক স্বজনের সহায়তায় ফোন করে নোটিসের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ওই দুঃসহ স্মৃতি ভুলে নতুন করে বাঁচতে চাই। পুনরায় পরীক্ষা করাতে তিনি রাজি নন বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক স.ম. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, মামলা তদন্তের খাতিরে পুলিশ নোটিস দিতেই পারে। কিন্তু ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে নির্যাতিতা অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে জোর করা যাবে না।
