বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাড়ি ও স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকার আজিজার রহমানের বাড়ি ও তার ছেলে মাহফুজুর রহমানের মালিকানাধীন স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করার সময় বাঁধা দিতে গেলে ওই বাড়ির মালিক, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ পাঁচ জনকে পিটিয়ে আহত করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয় ডাকাতদল।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ও পুলিশ জানায়, ১৫/১৬ জনের সংঘবদ্ধ একদল ডাকাত ঘটনার দিন রাত পৌনে একটার দিকে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আজিজার রহমানের দোতলা বাড়ির পিছনের দরজার তালা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাড়িতে থাকা আজিজার রহমান (৬৫), তার স্ত্রী বিলকিস বিবি(৫০), দুই ছেলে মাহফুজুর রহমান মিন্টু (৩৫), তারিকুল ইসলাম (২৫) ও আত্মীয় লিটন প্রাং-কে (৩২) মারপিট করে বেঁধে রেখে চারটি শয়ন কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ঘরে থাকা স্টিলের আলমারি ও বাড়িসংলগ্ন এমআর জুয়েলার্স’র সিন্ধুক ভেঙ্গে ২২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২০ ভরি রূপা, দুটি মোবাইল ফোন সেট, কাপড় ও নগদ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকাসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় টহলরত পুলিশ ধাওয়া করলে ডাকাতদল চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশও পাল্টা দুই রাউন্ড পিস্তলের ও তিন রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে। এ সময় পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় অবিস্ফোরিত দু’টি ককটেল উদ্ধার করলেও ডাকাতদলের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দুপচাঁচিয়া থানায় মামলা প্রস্তুতি চলছে।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনও ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। তবে খোয়া যাওয়া মালামাল ও জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
