স্কুল থেকে ফিরে দেখে স্বজনরা মাটির নিচে

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৪, ২৩:৫৯

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরে বাদুল্লা জেলার হালদুম্মুল্লা নামের একটি গ্রাম। গ্রামের মা-বাবারা প্রতিদিনের মতো গতকাল বুধবার সকালেও তার সন্তানদের স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের ক্লাসে পৌছে দিয়ে অনেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। ছুটি হলে আবার আনতে যাবেন। কিন্তু মা-বাবাদের আর সন্তানদের আনতে যাওয়া হলো না।  সন্তানরা ঠিকই বাড়ি ফিরে এলো। কিন্তু মা-বাবার কোলে চড়ার আশা আর পূরণ হলো না। নিজের বাড়ির কাছে এসে সন্তানরা দেখে সকালে রেখে যাওয়া তাদের বাড়িঘর আর নেই। নেই তার মা-বাবা কিংবা কোনো স্বজন। যারা বেঁচে আছেন তাদের বেশিরভাগই হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। দেশটির চা বাগান অধ্যুষিত গ্রাম কোসলান্ডায় ব্যাপক ভূমিধ্বসে ১শ’র বেশি নিহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ৩শ’র বেশি। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিধসে গ্রামটির দেড় শতাধিক বাড়ি ৩০ ফুট মাটির নিচে চাপা পড়েছে। তিন কিলোমিটার জুড়ে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। গত কয়েকদিন ধরে একটানা বৃষ্টিপাত হওয়ার কারনেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মাহিন্দ আমারাউইরা জানিয়েছেন, একশ’র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিখোঁজের তালিকায় আছেন তিনশ’র বেশি। তিনি জানিয়েছেন, যারা নিখোঁজ তাদের ফিরে পাওয়ার আশা কম। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং রাত হওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্কুল থেকে ফিরে এসে শিক্ষার্থীরা দেখেন তাদের সিমেন্ট এবং কাঁদামাটির তৈরি বাড়িটি মাটির নীচে। সঙ্গে নিয়ে গেছেন তাদের আপনজনদের। পাশের একটি স্কুলে প্রায় তিনশ শিক্ষার্থীকে একত্র রাখা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ২০০৫ এবং ২০১২ সালে ভূমিধসের বিষয়ে আগে থেকেই বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছিল এবং অন্যত্র চলে যাওয়ার আহবান জানানো হলেও বাসিন্দারা কর্ণপাত করেননি। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন এক নারী জানিয়েছেন, আমাকে মাটির নীচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু আমার মা এবং খালাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পি অরুমুগম নামের এক গাড়ি চালক জানান, গতকাল আমি এখানে ভবন, মন্দির এবং দোকান সবকিছুই দেখেছিলাম। কিন্তু আজ তার কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। এখন শুধুই কাঁদা মাটি দেখছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য উদিথ লোকুবন্দ্রো জানিয়েছেন, অনেক মা-বাবা তার সন্তানদের স্কুলে দিয়ে বাড়ি ফিরে আসছিল। সামান্য সময়ের ব্যবধানে এখন অনেক ছেলে-মেয়ে এতিম হয়ে গেল। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্র রাজাপাকসে এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।