বৃহস্পতিবার হরতালের সমর্থনে পিকেটিং ও সহিংসতার চেষ্টা করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে সহিংসতার পরিকল্পনার অভিযোগে মহানগর জামায়াতের আমীর, রাজশাহী জোনের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আতাউর রহমানসহ ২৬ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। নগরীর তেরখাদিয়ার বাসা থেকে বুধবার রাতে মতিহার থানা পুলিশ তাকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে মতিহার থানায় রাবির ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এরমধ্যে গত বছর ঢাকার কল্যানপুরে ককটেল ও বিপুল পরিমাণ বইপত্রসহ র্যাবের হাতে আটকের মামলা অন্যতম। ওইসব মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন বলে জানা গেছে।
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, আতাউর রহমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হরতালে নাশকতার সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগ ছিলো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদের বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার হরতালের সময় সকাল ৭টার দিকে কাটাখালি বাজারে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে হরতাল সমর্থকরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর নগরীল বিভিন্ন পয়েন্টে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে পিকেটিং ও সহিংসতার চেষ্টা করে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে তারা সফল হয়নি। এছাড়া ভোরে নগরীর হাদির মোড়ে টায়ার জ্তালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভের সময় বিজিবি’র তাড়ায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা পালিয়ে আত্মরক্ষা করে। হরতাল সত্ত্বেও বিভিন্ন রুটের আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে দূরপাল্লাসহ আভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলেনি। অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও নগরীতে রিকশা-ভ্যান, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাসহ হালকা যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। নগর ভবন, রাজশাহী রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, চেম্বার ও রেলভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুলিশ মোতায়েন ছিলো। রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান জানান, মহানগর জামায়াতের আমীর আতাউর রহমানসহ ছয়জনকে নগরীর তেরখাদিয়া থেকে অন্যদের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হরতালে নাশকতার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে। কেউ নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানান আরএমপি কমিশনার।
