স্বতন্ত্র যুব কেন্দ্র স্থাপনের তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:০৫
 
 
 
 
যুব সমাজের উন্নয়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বতন্ত্র যুব কেন্দ্র স্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। শনিবার জাতীয় যুবদিবস-২০১৪ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদফতরের আয়োজনে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যুব দিবসের আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ হাসান রাসেল, যুব অধিদফতরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব নুর মোহাম্মদ খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশের সব যুবককে কার্যকর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থান তৈরিতে যোগ্য করে তুলতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে সব যুবককে প্রশিক্ষণ দেয়া কঠিন কাজ, তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পর্যায় থেকে এই সার্ভিস শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, যুবকদের উন্নয়নে যুব মন্ত্রণালয় পিএটিসির আওতার বাইরে স্বতন্ত্রভাবে যুব কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে। অন্যান্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সাথে এর সম্পৃক্ততা থাকবে। যুব কেন্দ্র স্থাপনের পদক্ষেপ নেয়া হলে সরকার অবশ্যই ইতিবাচক সাড়া দেবে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, সরকার দেশের সব মানুষকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এরই মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় আমাদের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতকরা ৬ ভাগে নেমে এসেছে। সামনে তা আরো কমবে। এভাবে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুব-সমাজকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া হবে।
সুইজারল্যান্ডকে উন্নয়নের আদর্শ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের অন্যতম উন্নত রাষ্ট্র সুইজারল্যান্ডকে বাংলাদেশের উন্নয়নের আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমান সরকারও ওই ধারণায় পরিচালিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ট্রানজিট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, একসময় ট্রানজিট নিয়ে অনেকে ভয় পেত। আর আমরা দেশকে ট্রানজিট দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছি। যদিও ট্রানজিটের জন্য এখনো অবকাঠামোগত কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তবে তা কাটিয়ে উঠছি।
সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, দেশের অর্থনীতির শ্রমশক্তির এক তৃতীয়াংশ যুবক। এই যুব সমাজকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে সাহায্য করা হচ্ছে। এরা সফল হলে বাংলাদেশও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। এ সময় তিনি যুব অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ নেয়া যুবকদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য লিপিবদ্ধ রাখতে অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন।
জাতীয় যুব দিবস ২০১৪ উপলক্ষে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ও যুব সংগঠকদের শ্রেষ্ঠ ১৫ জনকে জাতীয় যুব পদক দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। পদক পেয়েছেন হাসিনা মুক্তা, বিলকিস বেগম, মাহবুব আলী, খনিয়া খানম ববি, প্রিয়দর্শী চাকমা, রোজীনা খানম, রনজিত্ চন্দ্র বৈদ্য, নুরুল হুদা চৌধুরী, মো. নজরুল ইসলাম, মো. শামছুদ্দিন, মো. মোস্তফা কামাল, খিতীশ চন্দ্র মণ্ডল, এস এম আরিফ, কে এম এনায়েত হোসেন ও সেহরীন হক।