উন্নয়ন অন্বেষণের পর্যালোচনা

মাথাপিছু ঋণ বৃদ্ধি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:৫২
 
গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মাথাপিছু ঋণ বাড়ছে যা উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক খাতের বরাদ্দ, উত্পাদন সক্ষমতা ও সর্বোপরি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি আন্তপ্রজন্ম ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৪১ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ঋণ বৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকিং খাতের তুলনায় ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে বেশি ঋণ করেছে। যদিও পূর্বের বছরগুলোতে বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে ব্যাংকিং খাতের ওপর সরকারের অধিক নির্ভরশীলতা দেখা যায়। এ দিকে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জুলাই মাসে মোট ঋণের প্রবাহ পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৭ দশমিক ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবাহ ৭৮ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
এ দিকে, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর সময়ে মাথাপিছু অভ্যন্তরীণ ঋণ বার্ষিক ১৪ দশমিক ৭১ শতাংশ হারে বেড়ে মোট ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য দিকে, একই সময়ে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বার্ষিক শূন্য দমমিক ৮৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে মোট ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০১-০২ অর্থবছর থেকে ২০০৬-০৭ অর্থবছর সময়ে মাথাপিছু অভ্যন্তরীণ ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ ছিল, যা ২০০৬-০৭ থেকে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বার্ষিক ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ হারে বেড়েছে। একই সময়ে অর্থাত্ ২০০১-০২ থেকে ২০০৬-০৭ ও ২০০৬-০৭ থেকে ২০০৮-০৯ অর্থবছর সময়ে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ ও ২ দশমিক ৪১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বৈদেশিক ঋণ বাড়ায় বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ফলে বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণও কমে যাচ্ছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ১ হাজার ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল, যার মধ্যে ৮৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আসল এবং ১৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সুদ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মোট বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৭৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে সুদ ও আসলের পরিমাণ যথাক্রমে ৬৪০ মিলিয়ন ও ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ দিকে, সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে বাজেট ঘাটতি বড় হয়ে যাচ্ছে। বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে সরকারের অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উত্পাদনশীল খাতের বরাদ্দকে সংকুচিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে উত্পাদন সক্ষমতা হ্রাস করতে পারে বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি মত প্রকাশ করে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি হার ২০ দশমিক ৩৯ শতাংশে দাঁড়ায়, যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৫৬ শতাংশ ছিল। অন্য দিকে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির হার কমে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে দাঁড়ায়, যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ছিল।