প্রতীক্ষা অবসানের কাছাকাছি পাকিস্তান

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৪, ২২:০৪
 
সেই ১৯৯৪ সালে সেলিম মালিকের নেতৃত্বে ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল পাকিস্তান।  এরপর প্রায় বিশ বছর পার হয়ে গেছে। এই সময়ে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া ৭টি টেস্ট সিরিজ খেলেছে, যার চারটিতেই হোয়াইট ওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান; জয় পায়নি তারা একটি সিরিজেও। অবশেষে বিশ বছরের প্রতীক্ষার অবসান দেখতে পাচ্ছে মিসবাহ-উল হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল।
আবুধাবি টেস্টে নিজেরা প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫৭০ রান করে ইনিংস ঘোষনা করার পর অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান অলআউট করেছে ২৬১ রানে। ৩০৯ রানের পর্বতসমান লিড নিয়েও অস্ট্রেলিয়াকে ফলোঅন না করিয়ে নিজেরাই লিডটা বড় করার চেষ্টায় আছে পাকিস্তান।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত ২ উইকেটে ৬১ রান তুলেছে মিসবাহর দল। এরই মধ্যে মাইকেল ক্লার্কদের কাঁধে চেপে গেছে ৩৭০ রানের লিড। এখনও দুই দিনের খেলা বাশি। আজ দ্রুত ইনিংস ঘোষনা করে বোলারদের হাতে ম্যাচটা তুলে দেওয়ার অপেক্ষা পাকিস্তানের।
দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি, দুবাই টেস্টে পাকিস্তানের ২২১ রানে জয়ের পর এই টেস্টেও অস্ট্রেলিয়া যে বিপর্যয়ে পড়তে যাচ্ছে, সেটা দ্বিতীয় দিনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। ইউনুস খানের ডাবল সেঞ্চুরি এবং আজহার আলী ও মিসবাহর সেঞ্চুরিতে ৫৭০ রান তুলে ফেলে পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে সেদিনই ২১ রান তুলতে ওপেনার রজার্সের উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া।
সকাল থেকে এই ধাক্কাটা কিছুতেই সামলে উঠতে পারছিল না সফরকারীরা। অভিষিক্ত পেসার ইমরান খান ও বাহাতি স্পিনার জুলফিকার বাবর এলোমেলো করে দেন অস্ট্রেলিয়ান টপ ও মিডল অর্ডার। মাইকেল ক্লার্ক ৪৭ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩৭ রান করে প্রতিরোধ গড়লেও ১৯৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকেও যে তারা একটা মোটামুটি পুজি গড়তে পেরেছে, সে কৃতিত্ব জিওফ মার্শের ছোট ছেলে মিশেল মার্শের। সাত নম্বরে নামা মার্শ ৮৭ রানের এক ইনিংস খেলে চেষ্টা করছিলেন দলকে টেনে তোলার।
সঙ্গে হাত লাগিয়েছিলেন পিটার সিডল। সিডল-মার্শ জুটি অস্ট্রেলিয়ান ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ৬২ রান যোগ করেন নবম উইকেটে। ১১৬ বলে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৭ রানের ইনিংস খেলে মার্শ আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান ইনিংস শেষ হয়ে যায়। দলকে ওই ২৬১ রানে রেখেই শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে ফেরেন ২৮ রান করা সিডল।
৩০৯ রানের লিড নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে আবার ব্যাট করতে নামিয়ে ইনিংস জয়ের আশা পাকিস্তান করতেই পারতো।
কিন্তু মিসবাহ একটু অন্যরকম ভাবলেন। তিনি দলকে ঝড়ো গতিতে আরও কিছু রান তোলার আশায় আবার ব্যাটিংয়ে নামালেন। ইনিংসের প্রথম বলেই চার মেরে আহমেদ শেহজাদ এই মানসিকতাটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। ইনিংসের প্রথম পাচ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কাসহ ১৪ রান তুলে নেন শেহজাদ। আর ষষ্ঠ বলেই মিশেল জনসন ফিরিয়ে দেন তাকে। ৫ ওভার পর্যন্ত এই ঝড়টা ধরে রেখেছিল পাকিস্তান। ৫ ওভারে ২ উইকেট হারালেও রান তোলে তারা ৩৪!
পরে অবশ্য এই রানের ধারাটা আর থাকেনি। তবে আজ সকালে পাকিস্তান যে আরেকটা ঝড় চালিয়ে ইনিংস ঘোষনার চেষ্টা করবে তাতে সন্দেহ নেই।