রাজশাহীতে গণজাগরণ সমাবেশে ইমরান ডা. এইচ সরকার

জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা না পর্যন্ত গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলন চালিয়ে যাবে

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৪, ২৩:৫৬

গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি মোড়ে আয়োজিত গণজাগরণ সমাবেশে এই আহবান জানান তিনি। ইমরান বলেন, ‘আবারো প্রমাণিত হয়েছে, জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াত-শিবিরের আর রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। এখন সময় এসেছে আইন করে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার। এই স্বাধীন বাংলায় আলবদর রাজাকার ও দেশদ্রোহী ও তাদের উত্তসুরীদের আর কোনো ঠাঁই নেই। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা না পর্যন্ত গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াত ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে এদেশের অনেক মানুষকে হত্যা করেছে। তারা দেশের জাতীয় চেতনা নষ্টের ষড়যন্ত্রসহ জাতীয় সংগীত, শহীদের স্মৃতিসৌধ ও বিভিন্ন ভাষ্কর্যের অবমাননা করেছে। রাষ্ট্রকে অনুরোধ করবো যুদ্ধাপরাদীদের বাঁচানোর চেষ্টা করবেন না। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে গিয়ে বিএনপি আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইমরান।

ভাষা সৈনিক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লাকি আক্তার,  মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, রাবি ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আয়াতুল্লাহ খামিনি, বিশিষ্ট সাংস্কৃতি কর্মী ও কবি অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামানিক, লেখক-সাংবাদিক প্রশান্ত সাহা, উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিদ্দিক মোল্লা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
শনিবার সন্ধ্যায় জাগরণ যাত্রায় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা নগরীর আলুপট্টিতে এসে পৌঁছান। এসময় শ্লোগানে মুখোরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সমাবেশ শেষে জাগরণ যাত্রার চারটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে রাজশাহী ছেড়ে যায়। এর আগে জেলার পুঠিয়ার বাসস্ট্যান্ড বটতলায় পৃথক পথসভায় বক্তব্য রাখেন ইমরান এইচ সরকার। এছাড়া কুষ্টিয়া, ঈশ্বরদী, নাটোরেও সমাবেশ-পথসভা করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। এসব সমাবেশ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দণ্ড মওকুফের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিধান রহিতকরণ এবং জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধসহ ছয়দফা দাবি জানানো হয়।