বিশ বছরের অপেক্ষা ঘুচতে সময় লাগলো মাত্র বিশ মিনিট! এই টেস্টেই যে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ জেতার বিশ বছরের অপেক্ষার পরিসমাপ্তি হতে যাচ্ছে সেটা অনুমিতই ছিল। তবে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল স্টিফেন স্মিথ ও মিচেল মার্শের জুটিটা।
মধ্যা বিরতির ঠিক আগে মার্শের বিদায়ের পর মাত্র মিনিট বিশেকই টিকে থাকল অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধ। দুই স্পিনার জুলফিকার বাবর এবং ইয়াসির শাহর তান্ডবে মাত্র আট রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারানো সফরকারীরা শেষ পর্যন্ত হারল ৩৫৬ রানের বিশাল ব্যবধানে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য তাদের ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম পরাজয় এটা। আর পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে প্রথম টেস্টে ২২১ রানে জয় পাওয়ায় হোয়াইটওয়াশের স্বাদই পেল পাকিস্তান। বিশ বছরের অপেক্ষার অবসানটা এর চেয়ে মধূর কিভাবে হয়!
দলীয় এসব সাফল্যের পাশাপাশি অনেকগুলো ব্যক্তিগত অর্জনও যোগ হয়েছে পাকিস্তানিদের ভাণ্ডারে। ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন একটা শঙ্কা নিয়ে সিরিজ খেলতে আসা ইউনুস খেলে ফেললেন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরনীয় সিরিজটি। টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন এই পাঠান।
অন্যদিকে অধিনায়কত্ব নিয়ে নড়বড়ে অবস্থায় থাকা মিসবাহ উল হকের জন্য এর চেয়ে ভাল কিছু পাওয়া বোধহয় সম্ভব ছিল না। পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়কদের তালিকায় এখন ইমরান খান, জাভেদ মিয়াদাদের সাথে একই ধাপে অবস্থান তার। সবাই জিতেছেন ১১ টি করে টেস্ট। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের হিসাবেও একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে দুই টেস্টের এই সিরিজ।
দুবাইতে প্রথম টেস্টের একমাত্র ইনিংসে ৬৯ রানের পর এই টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি। যার দ্বিতীয়টি দিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক ঠাঁই করে নিয়েছেন ইতিহাসে। দ্রূততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি টেস্ট ইতিহাসের দ্রূততম সেঞ্চুরির তালিকায় ছুঁয়েছেন কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডসকে।
শেষ টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছেন আজহার আলীও। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে সাঈদ আজমলের শূন্যতা পূরনের কিছুটা ইঙ্গিতও দিয়েছেন তরুন এই স্পিনার।
এত সব সাফল্যের ফলাফল এসেছে সাথে সাথেই। ইংল্যান্ড, ভারত এবং শ্রীলঙ্কাকে টপকে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান।
দলীয় রান ১০০ ছোঁয়ার আগেই চার টপ অর্ডারকে বিদায় করে দিয়ে জয়ের পথটা চতুর্থ দিনের শেষ সেশনেই পরিস্কার করে রেখেছিলেন বোলাররা। তবে পঞ্চম উইকেটে মার্শকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্মিথ। তবে বিরতির ঠিক আগে মোহাম্মদ হাফিজের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মার্শ। বিরতির পরে বাবর স্মিথকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললে সম্মান বাঁচানোর শেষ সুযোগটাও হারায় অজিরা। তবে প্যাভিলিয়নে যাবার আগে ৯৭ রানের লড়াকু এক ইনিংস খেলে আবারো নিজের সামর্থ্যের প্রমান দেন স্মিথ।
বাবরের পাঁচ উইকেটের পাশাপাশি তিনটি উইকেট নেন অভিষিক্ত ইয়াসির।
এর আগে ইউনুস খানের ডাবল এবং মিসবাহ-আজহারের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৫৭০ রানের পাহাড় গড়ে ইনিংস ঘোষনা করে পাকিস্তান। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে তারা আটকে দেয় ২৬১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে আবারো মিসবাহ-আজহার শো। বলের সাথে প্রায় পাল্লা দিয়ে রান তোলা পাকিস্তান সফরকারিদের সামনে জয়ের জন্য ছুড়ে দেয় ৬০৩ রানের বিশাল এক লক্ষ্য। সেই রানের পিছনে ছুটে অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত থমকে যায় ২৯৩ রানে।
দুই সেঞ্চুরি আর এক ডাবল সেঞ্চুরির সুবাদে সিরিজ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন ইউনুস। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটি গেছে মিসবাহ দখলে।
