ঋণ-আমানত সুদহারের ব্যবধান কিছুটা কমেছে

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:৪৫
 
ব্যাংকিং খাতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) কিছুটা কমেছে। তবে এখনো তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত সীমার মধ্যে আসেনি। গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে পাঁচ দশমিক ১০ শতাংশীয় পয়েন্টে। যা এর আগের মাস আগস্টে ছিল পাঁচ দশমিক ১২ শতাংশীয় পয়েন্ট। এদিকে স্প্রেড পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর প্রতি যে নির্দেশনা রয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে তা মানেনি ২৬ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার কাছাকাছি স্প্রেড চলে আসার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক ঋণের ঊর্ধ্বমুখী সুদহারের কারণে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এতে উদ্যোক্তার ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে অপারগ হয়ে পড়েছে। যার কারণে দেশে নতুন করে বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থানও শ্লথ হয়ে পড়েছে। আর এভাবে দেশের অর্থনীতি চলতে ব্যাংকিং খাতের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তেমনটাই স্বাভাবিক। তাই ব্যাংকিং খাততে টিকিয়ে রাখতে সুদহারের সামঞ্জস্য করা হচ্ছে। এভাবে আমানত ও সুদহারের ব্যবধান অনেক কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর শেষে ঋণ ও আমানত উভয় ক্ষেত্রেই কিছুটা সুদহার কমিয়েছে ব্যাংকগুলো। ফলে দেশের ৫৭টি ব্যাংকের ঋণের গড় সুদহার কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। যা আগের মাস আগস্ট শেষে ছিল ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এসময় আমানতে গড় সুদহারও কিছুটা কমে ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা আগস্ট শেষে ছিল ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এতে ব্যাংকিং খাতে গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে পাঁচ দশমিক ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট। যা আগস্ট শেষে ছিল ৫ দশমিক ১২ শতাংশীয় পয়েন্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংকের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে পাঁচ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। যা এর আগের মাস আগস্টে ছিল ছয় দশমিক ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। এছাড়া, বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানার আরো ২৫টি ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টর উপরে রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণে গড় সুদ হার কমে ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে। আর আমানতের গড় সুদহার কমে দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক ৭৫ শতাংশ। যা আগের মাসে ছিল সাত দশমিক ৯৪ শতাংশ। এতে তাদের স্প্রেডের ব্যবধান পাঁচ দশমিক ৪১ শতাংশীয় পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের স্প্রেড সবচেয়ে বেশি। এ ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। এরপরে ডাচ বাংলার সাত দশমিক ৫২ শতাংশ ও ওয়ান ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান সাত দশমিক ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। এছাড়া বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ৬২ শতাংশ, দি সিটি ব্যাংকে ছয় দশমিক ৫৪, আইএফআইসি ব্যাংকের ছয় দশমিক ৩৬, পূবালীর পাঁচ দশমিক ৩৫, উত্তরা ব্যাংকের ছয় দশমিক পাঁচ , ইস্টার্ন ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ২৪, প্রাইম ব্যাংকের পাঁচ দশমিক সাত, সাউথইস্ট ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ৬৬, ঢাকা ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ৭২, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকে পাঁচ দশমিক ৫১, এক্সিম ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ২৯, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে পাঁচ দশমিক ৫৬, প্রিমিয়ার ব্যাংকে ছয় দশমিক ৫৪, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ায় ছয় দশমিক ৩৮ ও  যমুনা  ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের ব্যবধান পাঁজ দশমিক ৩৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। 
এদিকে, বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানতের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকের গড় স্প্রেড আট দশমিক চার শতাংশীয় পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার কমে তিন দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ঋণের সুদহার কিছুটা কমে ১১ দশমিক ৮৯  শতাংশ রয়েছে। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড নয় দশমিক ৮৭ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এনএ’র আট দশমিক ৪৪, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ছয় দশমিক ৮৮, ওরি ব্যাংকের সাত, এইচএসবিসি ব্যাংকের স্প্রেড ৬ দশমিক ৮৮, ব্যাংক আল-ফালাহ্’র স্প্রেড পাঁচ দশমিক ২৯ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে রয়েছে। এদিকে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার ব্যাংকের ঋণে গড় সুদ হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশে। আমানতে সুদ হার সাত দশমিক ১৬ শতাংশ। এতে তাদের স্প্রেডের ব্যবধান তিন দশমিক ৫৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো গড়ে ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছে। আমানতে সুদ দিয়েছে মাত্র নয় দশমিক ১৮ শতাংশ। এতে তাদের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে দুই দশমিক ৭০ শতাংশীয় পয়েন্ট।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমানতের সুদের থেকে ঋণের সুদের হারের পার্থক্য পাঁচ (অর্থাত্ পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট)-এর মধ্যে থাকতে হবে। যদিও মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালার আলোকে ঋণ ও আমানতে সুদহার নির্ধারণ করতে পারে। তবে নৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণের সুদহার কমানোর লক্ষ্যেই ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দেয়।