চট্টগ্রাম বন্দরে বেপরোয়া পণ্য লোপাট

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৪, ১২:৩৯

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য চুরি ও লোপাটের সাথে জড়িত দুর্বৃত্ত চক্রগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বন্দরের ভিতরে চুরির ঘটনা কিছুটা কমলেও বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নেয়ার পর সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক থেকে পণ্য চুরি ও লোপাটের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্ত চক্রের হোতাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেফতার চলছে। তবে গ্রেফতারকৃত দৃর্বৃত্তরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আবারো সংঘবদ্ধভাবে পণ্য লোপাটের তত্পরতায় নেমে পড়ছে। দুর্বৃৃত্ত চক্র বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নিয়ে বের হয়ে আসা যানবাহনের উপর অভিনব কায়দায় চড়াও হওয়ার ঘটনা পণ্য আমদানিকারকদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির  বৈঠকে অবশ্য চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য চুরি সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও গত দশ বছরে চুরির ঘটনা অনেক কমেছে। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস এসোসিয়েনের (বাফা) চট্টগ্রামস্থ একজন কর্মকর্তা জানান, বন্দরের ভেতরে আমদানি পণ্য চুরির ঘটনা কিছু কমেছে, তবে তারা চান সংরক্ষিত এলাকায় চুরির ঘটনা শূন্যতে নেমে আসুক। কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে এলসিএল (লুজ কন্টেইনার লোডেড) থেকেই পণ্য চুরির ঘটনা বেশি ঘটে। এসব চুরির সাথে জড়িত চোরদের থানা পুলিশে সোপর্দ করার পর আবার ছাড়া পেয়ে চুরিতে তত্পর হয় বলে বন্দর ব্যবহারকারীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ, চোরদের তাত্ক্ষণিক বিচারের লক্ষ্যে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট একজন অপরাধীকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল প্রদান করতে পারছেন। ফলে পরিস্থিতির ক্রমোন্নতি ঘটবে বলে তারা আশা করছেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের এমপিবি ও এনসিটি গেইট অতিক্রম করার পর পর বন্দরের কাছেই কয়েকটি পয়েন্টে চোরচক্র পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে চড়াও হতে শুরু করে। এনসিটি থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত বন্দর থানা ও ইপিজেড থানার মাঝখান দিয়ে যাওয়া সড়কে দিনে-রাতে পণ্যচোর ও দুর্বৃৃত্তদের হাতে প্রায়শঃ আক্রান্ত হচ্ছে মূল্যবান আমদানি পণ্যবাহী যানবাহন। কর্মকর্তারা জানান, বন্দরের নিকটবর্তী ফ্লাইওভার, কাস্টমস হাউজের কাছে কাস্টমস ব্রিজ এমনকি অনেক সময়                  টোল সড়কেও পণ্য চুরি ও লোপাটের দুর্ধর্ষ ঘটনাগুলো ঘটছে। তারা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দুর্বৃত্তচক্র দেশের বিভিন্ন অভিমুখী কাভার্ডভ্যানগুলোর উপর দলবদ্ধভাবে চড়াও হয়ে এসিড দিয়ে দরজার তালা গলিয়ে ও ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে পণ্য লোপাট করছে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ওত পেতে থাকা দুর্বৃৃত্তরা আমদানিপণ্যবাহী গাড়ীতে রাতের বেলাতেই বেশিরভাগ হামলা চালিয়ে থাকে বলে সিএন্ডএফ কর্মকর্তারা জানান। পুলিশ ইতিমধ্যে লোপাট হওয়া বহু পণ্য উদ্ধারও করেছে। কিন্তু দুর্বৃত্ত চক্রের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতির কাছে পুলিশের অভিযান পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারছে না। প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ-কে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে হয় বলে কর্মকর্তারা জানান।
চট্টগ্রাম বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, আমদানি পণ্য লোপাটের ও চুরির ঘটনার সাথে কাভার্ডভ্যানের চালকদের এবং ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির লোকদের জড়িত থাকার ঘটনা ঘটছে। গত ১০ দিন আগে আমদানিকৃত সূতাবাহী একটি গাড়ি দুর্বৃত্তরা এভাবে নিয়ে যায়। ঢাকার সাভারে গাড়িটির সন্ধান মিলেছে। লোপাট হওয়া সূতা উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা করছে।  এসব ঘটনাকে চুরি বলা যাবে না। আইনের দৃষ্টিতে এগুলো পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাত্ বা লোপাটের ঘটনা। তিনি জানান. পাহাড়তলী, সীতাকুন্ড, মিরসরাই থেকে শুরু করে ঢাকার কাঁচপুর ব্রিজ, আশুগঞ্জ ও সাভার এলাকায় অনেকগুলো দুর্বৃত্ত গ্রুপ রয়েছে যারা চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য পরিবহন পর্যায়ে চুরি ও লোপাট করে নিয়ে যাচ্ছে।