লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ও উত্তর জয়পুরের বিনোধপুর এলাকায় বুধবার গভীর রাতে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ২পুলিশসহ কমপক্ষে ৫জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী খোরশেদ আলমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ও আবদুল আজিজ নামে জিসান বাহিনীর একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় একটি এলজি ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
খোরশেদ আলমকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত দুই পুলিশ সদস্যকে সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অন্য আহতরা গ্রেফতার এড়াতে অন্যত্র চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বুধবার গভীর রাতে সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় পুলিশের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী খোরশেদ আলমকে ধরতে ওই এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এসময় প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশসহ অন্তত ৫জন আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি ও দুই রাউন্ড গুলিসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সন্ত্রাসী খোরশেদ আলমকে আটক করে। গ্রেফতারকৃত খোরশেদ আলম ও আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
অপরদিকে, একই রাতে সদর উপজেলার জয়পুরের বিনোধপুর এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেলসহ রফিকুল ইসলাম, আমান উল্যা ও মাহফুজুর রহমান নামের ৩ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অন্যত্র নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে খবর পেয়ে অপহৃতদের উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর চাটখিল থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায় সীমান্তবর্তী বিনোধপুর এলাকায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এসময় সন্ত্রাসীরা অপহৃত ওই তিন জনকে মারধর করে তাদের ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিসান বাহিনীর সন্ত্রাসী আবদুল আজিজকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সন্ত্রাসীদের সাথে দত্তপাড়া ও বিনোধপুর এলাকার দুইটি স্থানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে । ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খোরশেদ আলম এবং জিসান বাহিনীর সদস্য আবদুল আজিজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
