ধর্ষণ দৃশ্য ইন্টারনেটে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি!

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৪, ০২:১৮

কুমিল্লার বরুড়ায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার পর তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লজ্জায় মেয়েটি এখন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। প্রায় এক মাস ধরে সে বিদ্যালয়েও যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির বাবা একজন দরিদ্র কৃষক। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দেওয়াননগরের বখাটে অলিউল্লাহ (২৫) মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। ওই মাসের কোনো একদিন সকালে মেয়েটি প্রাইভেট পড়তে অন্য এক সহপাঠীর সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। সে সময় অলিউল্লাহ মেয়েটিকে জাপটে ধরে রাস্তায় ফেলে দেন। এরপর মুখে আঘাত করেন। সেই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন অলিউল্লাহর সহযোগী রুমি। ওই ঘটনার পর বেশ কয়েকবার মেয়েটিকে কুপ্রস্তাব দেন অলিউল্লাহ। একপর্যায়ে অলিউল্লাহ মেয়েটিকে শ্লীলতাহানির দৃশ্য মুঠোফোনে দেখান। মেয়েটি বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানায়। তার বাবা অলিউল্লাহর পরিবারকে জানান। এতে অলিউল্লাহ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

গত ১৪ অক্টোবর সকালে মেয়েটি অসুস্থ বাবার জন্য ওষুধ আনতে বাইরে বের হয়। এ সময় অলিউল্লাহ মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওই দৃশ্যও অলিউল্লাহর সহযোগী রুমি ও শরীফ মুঠোফোনে ধারণ করেন। এরপর তাঁরা ভিডিও দৃশ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
এদিকে অলিউল্লাহর বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। অলিউল্লাহ ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাঁর স্ত্রী ওই ঘটনার খবর শুনে বাবার বাড়ি চলে যান। অলিউল্লাহর সাড়ে চার ও আড়াই বছরের দুটি মেয়ে রয়েছে। ওই বাড়ির একাধিক বাসিন্দা বলেন, অলিউল্লাহ কৃষিকাজ করেন। তিনি বখাটে-প্রকৃতির।
ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘মেয়েটি অনেক দিন ধরে স্কুলে আসে না। সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর স্কুলে এসেছিল। তার খারাপ ভিডিও মুঠোফোনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।’ কুমিল্লার নির্যাতিত নারীদের সংগঠন ‘নারী দিপীতা’র সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা জেবিন বলেন, ‘আমাদের কাছে সিডি করে পুরো ঘটনার দৃশ্য দেওয়া হয়েছে। ঘটনার এত দিন পরও কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা প্রশাসনকে খুঁজে বের করতে হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে খোশবাঁশ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা বলেন, মেয়েটির মা বাদী হয়ে বখাটে অলিউল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।