অনন্য উচ্চতায় সাকিব

সিরিজ বাংলাদেশের

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৪, ১১:২০

এক টেস্টে : ১৪৩ রান ১০ উইকেট; ৪১৯ পয়েন্ট নিয়ে ফের সেরা
দুই ইনিংসে : ১০ উইকেট নেয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি
এক টেস্টের নৈপুণ্যে: ৩য় সেরা অলরাউন্ডার
সবুজ মাঠের মাঝখানে চলছে বিজয় উত্সব। একে একে বিজয়ের স্মারক উইকেট তুলে নিচ্ছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। মুশফিক বাহিনী উত্সব করতে করতে ড্রেসিং রুমে ফিরে গেলেও থামলো না গ্যালারির উচ্ছ্বাস। সেটা থামার কথাও নয়। তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ জয়ের সাক্ষী হয়ে থাকার সুযোগ পেয়ে গেলো এই শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের দর্শকরা। পঞ্চম দিনে জিম্বাবুয়েকে ১৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে অন্য রকম ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। আর এক টেস্টে সেঞ্চুরি আর ১০ উইকেট নিয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
শুধু ‘জয়’ শব্দ দিয়ে এই ম্যাচ বিজয়কে ঠিক বোঝানো যাবে না। কারণ এই ম্যাচ জিতেই মুশফিক বাহিনী প্রথমবারের মতো উঠে আসলো টেস্ট র্যাংকিংয়ের নবম স্থানে। দেশের মাটিতেও বাংলাদেশের এটি তৃতীয় টেস্ট জয়। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ জয়। চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হওয়ার পরও মনে হচ্ছিলো ম্যাচ হয়তো ড্র’র পথেই এগুচ্ছে। কিন্তু হঠাত্ করেই বাংলাদেশি স্পিনারদের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হলো উইকেট। সাকিব, তাইজুল আর লিখন এই স্পিন ত্রয়ীর ঘূর্ণী জাদুতেই ধরাশায়ী সফরকারীরা। এই জয়ের মধ্যদিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে গেল স্বাগতিকরা। চট্টগ্রামের ম্যাচটা তাই সে ফ নিয়ম রক্ষার ম্যাচ হয়েই থাকলো।
পাঁচ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চের আট ওভার আগে ইনিংস ঘোষণা করার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ নয় উইকেটে ২৪৮ রান। এর সাথে আগের ইনিংসের ৬৫ রানের লিড মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩১৪ রান। আর বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১০ উইকেট। দিনের তখনো বাকী ৬৮ ওভারের খেলা। এরপরই শুরু হয় পঞ্চম দিনের আসল রোমাঞ্চ। আর সেই রোমাঞ্চের জন্ম দেন বাংলাদেশের স্পিনাররাই। লাঞ্চের আগেই দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফেরান তাইজুল আর সাকিব। লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারেই সাকিবের বলে ব্যাকওয়ার্ড শর্ট লেগে শুভাগতর হাতে ক্যাচ হয়ে ফিরে যান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। স্কোরবোর্ডে ১৫ রান তুলতে না তুলতেই তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
এরপর প্রতিরোধের প্রাচীর গড়ার চেষ্টা করেন প্রথম ইনিংসের দুই সেঞ্চুরিয়ান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও রেগিস চাকাভা। এক সময় তারা দুজনে ৫০ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। এরপর ৬০ রানের জুটিও পার করেন তারা। চিন্তার রেখা দেখা দিতে শুরু করে বাংলাদেশ শিবিরে। এই জুটির ৭০ রান করে ফেলার পর এক সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচ হয়তো ড্র হতে যাচ্ছে ম্যাচ।  ঠিক ঐ সময়ে মুশফিক আক্রমণে নিয়ে আসেন তরুণ লেগ স্পিনার যুবায়ের হোসেন লিখনকে। আর তাতেই বাজিমাত্! চাকাভা আর ক্রেইগ আরভিনকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন লিখন। বাকি কাজটা সহজেই শেষ করে দেন দুই স্পিনার সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলাম। ফলাফল দিনের খেলা শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা সতেরো মিনিট আগেই ১৫১ রানে অল আউট জিম্বাবুয়ে।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের সবচেয়ে বড় ধসটা নামান সাকিব। প্রথম ইনিংসের মত এবারও নিলেন পাঁচ উইকেট। আর তাতেই ৩১ বছরের পুরনো এক রেকর্ড নতুন করে লেখা লাগলো। ১৯৮৩ সালে ভারতের বিপক্ষে ইমরান খান এক টেস্টের দুই ইনিংসে পাঁচ কিংবা তার বেশি সংখ্যক উইকেট নেয়ার পাশাপাশি করেছিলেন সেঞ্চুরি। সাকিবও এবার নাম লেখালেন এই রেকর্ডের তালিকায়। এই তালিকায় আছেন ইতিহাস সেরা আরেক অল রাউন্ডার ইয়ান বোথাম। তার কীর্তির দেখা মিলেছিলো ১৯৮০ সালে। এমন জয়ের সাথে সাকিবের এই অনন্য রেকর্ড; অনেক দিন মনে রাখার মতোই একটা দিন কাটালো বাংলাদেশের ক্রিকেট।