আমন ধান রোপনের পর কৃষকের ঘরে কোন কাজ থাকে না। এর ফাঁকে আবহমানকাল ধরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় চলে আসছে লাঠি খেলা। লাঠি খেলা এক সময় ছিল গ্রামীণ বিনোদনের অন্যতম খোরাক। কালের আবর্তনে মানুষ ভুলতে বসেছে লাঠি খেলা।
১০/১৫ বছর আগের লাঠি খেলার বেশ প্রচলন ছিল। বাহারী নানান পোশাক পড়ে লাঠি ও দা হাতে খেলোয়াড়রা তাদের শারীরিক কসরত প্রদর্শণ করে দর্শকদের আনন্দ দিত। দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসতো মানুষ এ খেলা দেখার জন্য। এক সময় বৈশালী, পাশের বাড়ি, পিরিপাইট, বেনিয়ম, মৃত্যুবাড়ী, শেয়ালধরা এ রকম নানান রকমের লাঠি খেলার প্রচলন ছিল।
শারীরিক কসরত প্রদর্শন ও নিজেদের আতœরক্ষার্থে বহুকাল থেকে লাঠি খেলার প্রচলন ছিল। একজন ওস্তাদের নির্দেশে কখনো একক ভাবে কখনো একের অধিক হয়ে কখনো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে, আবার সকলেই একত্রে মিলে লাঠি খেলা দেখাত। লাঠি খেলায় দুই ধরনের লাঠি ব্যবহার করা হয়ে থাকে- ছোট লাঠি লম্বা হয়ে থাকে আড়াই হাত, বড় লাঠি লম্বায় হয়ে থাকে ৪ হাত। এ ছাড়া এ খেলায় দেখনো হয় ৪ বালডির খেলা, ৬ চাকুর খেলা ও রামদার শারীরিক কসরত।
লাঠি খেলা খেলতে সাধারণত ৩০ জনের মত একটি দল হয়। একটানা ৩ ঘণ্টার মত খেলা চলে।
খেলায় বাদ্যযন্ত্র হিসাবে কারা, বোম, জয়ডাক, কনেট ও পাতাবাঁশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে বোম বাদ্যযন্ত্রটি না থাকায় তারা অন্য যন্ত্রের উপর নির্ভর করে সে বাজনা বাজিয়ে থাকে।
গ্রামগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে এ খেলা চলে এলেও বর্তমানে তা বিলুপ্তির পথে। বিভিন্ন জায়গায় লাঠি খেলা দেখা যায়। কিন্তু এ লাঠি খেলা ক্ষণিকের জন্য। খেলাটি দিনের পর দিন হারিয়ে যাওয়ার ফলে এর খেলোয়াড় সংখ্যা কমছে। তৈরি হচ্ছে না নতুন খেলোয়াড়। আর পুরনো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা অর্থাভাবে প্রসার করতে পারছে না এ খেলা।
উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বিড়ালশাখ খামার বাড়ীতে শামছুল হক সরকার (৬৫) নামের এক লাঠি খেলোয়াড় ৩২ জনের একটি খেলার দল গঠন করেছেন। তারা খেলাটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শণ করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। লাঠি খেলোয়াড় শামছুল হক সরকার জানান, তার পিতার পিতাও লাঠি খেলেছেন। তিনিও খেলছেন। পরে যারা খেলবেন তাদের জন্যই তিনি দলটি গঠন করেছেন। তিনি আরও জানান, লাঠি খেলা জানা থাকলে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ খেলা জানা থাকলে খালি হাতে শক্র পক্ষের হাত থেকে বেঁচে আসা সম্ভব। তাছাড়াও শারীরিক কসরতের এ খেলাটি ব্যায়াম স্বরূপ। এ খেলার মাধ্যমে শরীর ও মন সতেজ থাকে।
অবিলম্বে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করে হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার এ লাঠি খেলা চালুর দাবি বিনোদন প্রত্যাশীদের।
