সিলেটে সংঘর্ষে ১৩ পুলিশ সদস্য আহত

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৪, ১৭:৪০



সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের বীরকুলি গ্রামে মনাফ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ পুলিশ সদস্যসহ ১৯ জন আহত হয়েছেন। একটি জলমহালের দখলকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীসহ চারজনকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হলেন- মনির উদ্দিন(৪০), কামাল উদ্দিন(১৬), নাজমা বেগম(২৮) ও ছালেহা খাতুন (২৬)। তাদের সবার বাড়ি বীরকুলি গ্রামে।  বর্তমানে ঐ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে মনাফকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে প্রায় দেড় শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর খায়রুল বাসার বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, আব্দুল মনাফের নেতৃত্বে তার বাহিনী শুক্রবার রাতে থুবরী শিলচান গ্রুপ জলমহালটি অবৈধ দখলের প্রস্তুতি চালায়। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  আব্দুল হাই শতাধিক পুলিশ নিয়ে শনিবার ভোর আড়াইটার দিকে বীরকুলি গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় মনাফ বাহিনী পুলিশের উপর হামলা চালালে সেখানে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অবস্থা বেগতিক দেখে ৭৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। মনাফ বাহিনীও পাল্টাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গোয়াইন ঘাট থানার ওসি  রুহুল আমিন, এসআই খায়রুল বাশার, এসআই হাবিবুর রহমান, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই জাকির হোসেন, এসআই আব্দুল হাদি, এএসআই রবিউল, এএসআই দুলালসহ ১৩ পুলিশ সদস্য ও দুলাল বাহিনীর ছয় সদস্য আহত হন। তাদেরকে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ জানায়, বীরকুলি গ্রামের আব্দুল মনাফ দীর্ঘদিন থেকে চাঁদাবাজি, খুন, জ্বালাও-পুড়া, হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানায় তার উপর চাঁদাবাজিসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। পুলিশ আরো জানায়, প্রভাতী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ-এর সাধারণ স¤পাদক তীর্থ রঞ্জন দাসের দায়েরকৃত একটি চাঁদাবাজি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ভোরে এ অভিযান চালানো হয়।