সামগ্রিকভাবে পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও নিষ্পত্তির হার উভয়ই বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ এর আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। একইসঙ্গে পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে পণ্য আমদানির ওপর ঋণপত্র খোলা হয়েছে এক হাজার ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময় শেষে ছিল ৯৫৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। সে হিসাবে প্রথম প্রান্তিক শেষে আমদানি পণ্যের ওপর ঋণপত্র খোলার হার ১০৮ কোটি চার লাখ ডলার বেড়েছে। যদিও গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের একই সময়ে আগের ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছিল ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
একইভাবে পণ্য আমদানিতে ৯৬৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৭৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এতে করে আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তির হার বেড়েছে ৯৬ কোটি ডলার বা ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। যা এর আগের বছর বেড়েছিল ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
এদিকে একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসে সব ধরনের পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির হার উভয়ই কিছুটা বেড়েছে। এ মাসে ৩৫২ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের সমপরিমাণ পণ্যের ঋণপত্র খোলা হয়েছে। যা আগের মাসে ছিল ৩৪৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ বেড়েছে ১৩ দশমিক ০২ শতাংশ। এসময়ে নিষ্পত্তির হার বেড়েছ ৯ দশমিক ১০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ৩২৬ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের সমপরিমাণ ঋণপত্র নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যা আগের মাসে ছিল ২৯৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ৩৬৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার,নিষ্পত্তি হয়েছিল ২৯৪ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মূলধনী যন্ত্রাংশের জন্য ২৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ১৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। যা আগের মাস আগস্টের তুলনায় কিছুটা বেশী। ব্যাক টু ব্যাকের পন্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৬৪ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ৫৫ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। পোশাক শিল্পে ব্যবহূত রাসায়নিক পণ্য আমদানিতে ২৬ কোটি ৯২ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। খাদ্যপণ্যের মধ্যে চাল আমদানিতে চার কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ঋণপত্র খোলা হলেও ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে তিন কোটি ৩৫ লাখ ডলার। গম আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, খোলা হয়েছে ছয় কোটি ৩৫ লাখ ডলার। চিনি আমদানিতে পাঁচ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে চার কোটি ৮৪ লাখ ডলার। এছাড়া, পরিশোধিত তেল আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে তিন কোটি ৭৫ লাখ ডলারের, নিষ্পত্তি হয়েছে সাত কোটি ৪৯ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে অন্যান্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৯৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার আর নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৩ কোটি এক লাখ ডলার।
