এনেসথেটিস্ট সংকটে চট্টগ্রামের অধিকাংশ হাসপাতাল

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৪, ০০:৫১

চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালগুলোতে এনেসথেটিস্ট (অবেদনবিদ) সংকটে সার্জারী কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। জেলার ১৪টি হাসপাতালে সৃষ্ট পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সার্জারী চিকিত্সার গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি খালি রয়েছে। অথচ চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সৃষ্ট পদের পাঁচ গুণ বেশি এনেসথেটিস্ট কর্মরত রয়েছে। তারা উচ্চ পর্যায়ে তদবির করে শহরের এই হাসপাতালে চাকরি করছেন।

জেলার উপজেলা হাসপাতালগুলোতে জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেসথেটিস্টের ১টি করে পদ থাকলেও ঐ পদে চিকিত্সক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। এতে সার্জারী চিকিত্সা ও জটিল প্রসূতিদের সিজারিয়ান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে একটি করে জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ রয়েছে। জেলার ১৪টি হাসপাতালের মধ্যে বোয়ালখালী ও সীতাকুন্ডে এনেসথেটিস্ট পদে দু’জন চিকিত্সক রয়েছেন। বাকি হাসপাতালগুলোতে সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে ৪/৫ বছর পর্যন্ত সার্জারী চিকিত্সার গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে ছোট-খাট সার্জারী চিকিত্সার জন্য গ্রামের রোগীদের চট্টগ্রাম শহরের হাসপাতালে আসতে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম ইত্তেফাককে বলেন, তার হাসপাতালে ৪/৫ বছর যাবত্ জুনিয়র কনসালটেন্টের পদটি শূন্য রয়েছে। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, প্রায় ২/৩ বছর যাবত্ পদটি খালি রয়েছে। সমপ্রতি ৩৩তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্য বিষয়ের একজন চিকিত্সককে জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেসথেটিস্ট পদে পদায়ন করা হয়েছে। মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এসএম তবারক উল্লাহ বলেন, এনেসথেটিস্টের পদটি প্রায় ৭/৮ মাস যাবত্ খালি রয়েছে। অথচ অপারেশনের অন্যান্য চিকিত্সা উপকরণ আমাদের রয়েছে।

জেলা সরকারি হাসপাতালগুলোতে সার্জারী চিকিত্সার করুণ অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘জেলার হাসপাতালগুলো খালি থাকলেও চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সিনিয়র ও জুনিয়র অসংখ্য এনেসথেটিস্ট সৃষ্ট পদের বাইরে সংযুক্তি দেখিয়ে পদায়ন করা হয়েছে। কেউ শহরের বাইরে যেতে চায় না। এদের পদায়ন নিয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’