নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। নৌ-শ্রমিকদের নিরাপত্তা, নিখোঁজ ৭ শ্রমিক উদ্ধারসহ সাত দফা দাবিতে গত শনিবার এই লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।
এদিকে নৌযান ধর্মঘটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সারাদেশে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। শনিবার থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অংশে নৌ-চলাচল আংশিক বন্ধ থাকলেও গতকাল রবিবার সকাল থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ধর্মঘটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্যবাহী মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে লাইটারেজ জাহাজের (ছোট জাহাজ) মাধ্যমে বাল্ক কার্গো (খোলা পণ্য) খালাস বন্ধ রয়েছে। বন্দরের বহির্নোঙরে গতকাল ২১টি পণ্যবাহী মাদার ভেসেল পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষায় ছিল। এসব ভেসেলে প্রায় ৪ লক্ষ টন পণ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমঝোত বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন। বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ৭ নৌকা শ্রমিক অপহরণের হোতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে তারা গ্রেফতার হবে। আগামী ১৮ নভেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বৈঠকে চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌ রুটে স্থায়ী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হবে বলে তিনি সভায় জানান। সভায় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপার ছাড়াও কোস্টগার্ড পূর্বজোন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ পুলিশ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গতকাল নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান চট্টগ্রাম বন্দরের একটি অনুষ্ঠানে নৌযান ধর্মঘট দ্রুত প্রত্যাহার হবে বললেও নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম ডিআইজি অফিসে এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও ওই বৈঠকে নৌযান শ্রমিকদের একটি অংশ অংশগ্রহণ করে। ফলে নৌযান ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়নি। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন তাদের দাবির সমর্থনে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
নৌযান ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, চট্টগ্রামের ডিআইজি’র সাথে কাদের বৈঠক হয়েছে তা তারা জানেন না। তিনি বলেন, নৌযান শ্রমিকদের বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হচ্ছে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত আছে এবং থাকবে।
গত শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির উদ্দেশে যাওয়া এমডি কর্ণফুলী-৫ জাহাজের মাস্টার, লস্কর, সুকানিসহ ৭ জন নিখোঁজ হওয়ার পর নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন এই ধর্মঘট আহবান করে।
আশুগঞ্জ বন্দরে আটকা ৩ শতাধিক জাহাজ: আশুগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ধর্মঘটের কারণে অচল হয়ে পড়েছে আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক নৌবন্দর। রবিবার সকালে কার্গো জাহাজ থেকে ভারতীয় চাল খালাস বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। এতে নৌবন্দর থেকে ত্রিপুরায় চাল পরিবহনও বন্ধ রয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার পর নৌবন্দর থেকে ছেড়ে যায়নি কোনো নৌযান। আশুগঞ্জ থেকে ৬টি নৌরুটে পণ্য পরিবহনও বন্ধ রয়েছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বরিশাল অফিস জানায়, ধর্মঘটের কারণে শনিবার সকাল থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত বরিশাল নৌ বন্দরে সব ধরনের পণ্য খালাস ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে। নৌযান ফেডারেশনের আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একিন আলী মাস্টার বলেন, নৌ-শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে আমরা বরিশাল নৌ-বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহন থেকে বিরত রয়েছি। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
