বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, এশিয়ান টাইগার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষা, অবকাঠামো, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে অধিক গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এ সবের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন থাকলে বাংলাদেশ হবে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের কেন্দ্রস্থল। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বক্তব্য দানকালে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় ইআরএফের প্রেসিডেন্ট সুলতান মাহমুদ ও সেক্রেটারি সাজ্জাদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ড্যান মজীনা বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদের দেশ। এখানকার ভূমি, পানি, পরিবেশ, গ্যাস, কয়লা ও জনগণ দেশটির উন্নয়নে কার্যকর সম্পদ। এশিয়ান টাইগার হতে কাঙ্ক্ষিত শিল্প উন্নয়নে এ সব সম্পদের পাশাপাশি বিশাল যুবশক্তিকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে। যুবশক্তিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করতে পারলে জনশক্তি রপ্তানি খাতেও বাংলাদেশের গুণগত উন্নতি হবে।
কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ বৈপ্লবিক উন্নতি করছে উল্লেখ করে ড্যান মজীনা বলেন, কৃষি জমির পরিমাণ কমে এলেও খাদ্য-নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সফলতা দেখিয়েছে। এ ছাড়া, স্বাস্থ্য খাতেও ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত রাখতে হবে।
এশিয়ান টাইগার হওয়ার প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে ড্যান মজীনা বলেন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নতি করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকদের উচ্চ-বেতন দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে মেধাবীদের আগ্রহী করতে হবে। এ ছাড়া, স্কুলগুলোয় সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও ইন্টারনেটের ব্যাপক সুযোগ দিতে হবে। এতে শিক্ষার মান বাড়বে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। জনগণকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করতে হবে। এতে দেশের শিল্পে উত্পাদনশীলতা বাড়বে। এ ছাড়া, অবকাঠামো খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশব্যাপী সড়ক ও রেল যোগাযোগ সহজ ও দ্রুত করতে হবে।
ড্যান মজীনা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক সম্প্রসারণের কাজ তো চাঁদের দেশে যাওয়ার রাস্তা নয় যে, বছরের পর বছর সময় লাগবে। খুব দ্রুত এটা সম্পন্ন করা উচিত। কারণ, এ একটি রাস্তা দিয়েই দেশের সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানির কাজ সারতে হয়। বন্দর সম্প্রসারণও দ্রুত করা উচিত। তিনি বলেন, শিল্প উদ্যোক্তারা বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সংকটের কথা প্রতিনিয়ত বলছেন। এশিয়ান টাইগার হতে হলে এ সংকট দূর করতে হবে। চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের ব্যাপক পরিমাণে বিদ্যুতের সরবরাহ দরকার। এ জন্য পাশ্ববর্তী দেশগুলো থেকে সরকার আমদানি করতে পারে। এ ছাড়া, জ্বালানি সংকট নিরসনে গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলনে গুরুত্ব দেয়া দরকার। এগুলো সম্পন্ন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন বজায় রাখা জরুরি। তবেই দেশের শিল্প খাত উন্নত হবে। উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন।
অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) পুনরুদ্ধার সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ড্যান মজীনা বলেন, জিএসপি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিংবা আমার হাতে নয়। আমি চাইলেও দেয়া সম্ভব নয়। এটি কংগ্রেসে নির্ধারিত হয়। সুতরাং এ বিষয়ে কংগ্রেসে শক্তভাবে বাংলাদেশের যুক্তি (আর্গুমেন্ট) তুলে ধরা প্রয়োজন। তবে তার আগে বাংলাদেশের শিল্প খাতের কাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র শিল্পে শতভাগ নিরাপত্তা চায়। পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত দেখতে চায়। যেন আর কোনো রানা প্লাজার ধস দেখতে না হয়। কিংবা আর কোনো তাজরীনের অগ্নিকাণ্ড না ঘটে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার গুরুত্ব নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সফল হলে বিশ্বে বাংলাদেশের একটি ব্র্যান্ডিং তৈরি হবে, যা বিশ্বে পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্থানে আবির্ভূত করবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড্যান মজীনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ট্যারিফ বাবদ বাংলাদেশ বড় অঙ্কের অর্থ দিচ্ছে—এমন সংবাদ ঠিক নয়। অনেক সময়ই বাংলাদেশের সংবাদপত্রে এ ধরনের খবর লেখা হয়, যা ঠিক নয় বরং এ সব পোশাকে যে ট্যারিফ রয়েছে, তা আমেরিকার ভোক্তারা বহন করেন।
