দেশের পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে ইন্টারনেট প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে ‘গুগল বাস’। বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় সার্চ ইঞ্জিন গুগল এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এক বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩৫টি লোকেশনে ৪৮০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাবে প্রযুক্তি সজ্জিত ‘গুগল বাস’।
বাসটিতে আসনগুলো এমনভাবে বানানো হয়েছে যে প্রতিটি আসনের সামনে থ্রিজি ইন্টারনেট সংযোগ সংবলিত মনিটর ও সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে। অডিও-ভিডিও’র মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাসে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন, প্রকল্প তৈরি ও ব্যবসা পরিচালনা করার কৌশল রপ্ত করানোর জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। উপস্থিত ছিলেন গুগলের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এমারজিং মার্কেটের কান্ট্রি ম্যানেজার জেমস ম্যাকক্লুর।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, গুগলের এই কার্যক্রম দেশের তরুণদের প্রযুক্তি দক্ষতা এনে দেবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে এই তরুণরা প্রধান শক্তি। প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে গুগলের সাথে আমরা আরো কার্যক্রম শুরু করব।
জেমস ম্যাকক্লুর বলেন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেলে বাংলাদেশের তরুণরা ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি বিশ্বের প্রথম সারিতে অধিষ্ঠিত করবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ‘গুগল বাস’ ছয়টি বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাবে।
বাংলাদেশে ‘গুগল বাস’ কার্যক্রমের কমিউনিটি এনগেজমেন্ট কর্মকর্তা আরিফ নেজামী জানান, ‘গুগল বাস বাংলাদেশ প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্প দেশজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২ জন ট্রেইনারের নেতৃত্বে কয়েক সদস্যের প্রশিক্ষণ টিম যাবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের গুগল টুলস ও ইন্টারনেট বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি ইন্টারনেটের উপযোগিতা, শক্তি ও সুফল সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে তারা গুগলের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ব্যবহারের কলাকৌশল জানার সুযোগ পাবে।
‘গুগল বাস’ বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট ধ্রুব অন্তর বলেন, গুগল বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য যে ভিডিও বানানো হয়েছে সেটার স্থায়িত্ব ৩ মিনিট। এই ভিডিওর মাধ্যমে মূলত উত্সাহ দেয়ার চেষ্টা করা হবে; যাতে আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের সুন্দর পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারেন।
হেড অফিস কমিউনিকেশনের ব্যানারে নির্মিত বাসটিতে ৯টি মনিটর, ৪টি সিসি ক্যামেরা ও ২টি সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে। প্রতিটি কর্মশালায় একজন প্রশিক্ষক শিক্ষার্থীদের গুগল সার্চ, ক্রোম, ডকস, ম্যাপস, ইউটিউব, গুগল প্লাসসহ নানা বিষয়ে ধারণা দেবেন। কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা যা শিখবেন তা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় এমন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস বা মোবাইল ফোনে চর্চার সুযোগ পাবেন।
এ সেবা চালুর আগে গত ২১ অক্টোবর গুগলের বিভিন্ন প্রযুক্তির উপর ছয় দিনব্যাপী ‘গুগল বাস’ নামক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্স’র (ইউআইটিএস) বারিধারার মেইন ক্যাম্পাসে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ইউআইটিএসের সব বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীর জন্য উন্মুক্ত এ কর্মশালায় স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার করে গুগল প্লাস, গুগল ড্রাইভ, গুগল কমিউনিটিস ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আঙ্গিকে ‘গুগল বাসে’র কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রতিবেশি দেশ ভারতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
