ওয়ান্ডেতে রোহিত শর্মার ২৬৪ রানের পর আপনার মনে হতে পারে ওয়ানডেতে ৩০০ রানের ইনিংসের দেখা মিলবে কবে? টি-টোয়েন্টির যুগে ওয়ানডেও কি টি-টোয়েন্টি হয়ে গেল! অন্তত বৃহস্পতিবার রোহিতের ব্যাটিং যারা দেখেছেন তাদের এমনটা উদয় হতেই পারে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ রোহিত এদিন কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে ভেঙে দিলেন ড্যাশিং ওপেনার বিরেন্দ্র শেবাগের ২১৯ রানের রেকর্ড। সাঈদ আনোয়ারের সর্বোচ্চ ১৯৪ রানের রেকর্ড টিকে ছিল দীর্ঘ সময়। তার রেকর্ড ভাঙার পরপরই এই রেকর্ড খুব বেশি সময় ধরে টিকছে না। তাই রোহিতের এই রেকর্ড কত দিন টিকে থাকবে এখন সেটাই দেখার। সেদিন বোধহয় আর বেশি দূরে নেই, যেদিন ওয়ানডেতেও দেখা মিলবে ট্রিপল সেঞ্চুরি।
এক বছর আগে এই নভেম্বরেই ব্যাঙ্গুলুরুতে ২০৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রোহিত। তার মানে ওয়ানডে ইতিহাসে দুবার ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যান তিনি। আর নভেম্বরের ১৩ তারিখ হয়ে থাকলো রোহিতের ক্যারিয়ারের সেরা দিন হিসেবে। এদিন রোহিত স্রেফে লংকান বোলারদের তুলাধূনা করেছেন।
১৭৩ বলে খেলা তার ৩৩ বাউন্ডারি আর ৯ ছক্কা তো তাই প্রমাণ করে। অধিনায়ক বিরাট কোহলি করেন ৬৬ রান। আর এতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত উঠে যায় ৪০৪ রানের পাহাড়ে। এ নিয়ে ৪০০ স্কোর পঞ্চমবারের মতো পেরোল ভারত। জবাবে পুরো শ্রীলংকা দল মিলে তুলেছে ২৫১ রান। যা রোহিতের ব্যক্তিগত স্কোরের চেয়ে ১৩ রান কম।
৪০৪ রান ধাওয়া করতে যেমন শুরু দরকার ছিল লংকানদের, তা হয়নি। উল্টো ৪৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকে শ্রীলংকা। যেখানে সর্বোচ্চ ৭৫ রান এসেছে অধিনায়ক ম্যাথুউজের ব্যাট থেকে। এছাড়া লাহিরু থিরিমান্নে করেন ৫৯ রান। ধাওয়াল কুলকার্নি ৩৪ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
আগেই পাঁচ ম্যাচের সিরিজকে ভারত ৩-০ করে ফেলায় অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল জয়ের ধারায় ফেরা। যাতে একটু হলেও সম্মানটুকু বাঁচে। ইডেন গার্ডেনে যা হলো তাতে ১৫৩ রানে জয়ী ভারত ৩-০ কে বাড়িয়ে করে ফেললো ৪-০। এখন রাচিতে ১৬ নভেম্বর পঞ্চম এবং শেষ ওয়ানডেতে লংকানরা জিততে না পারলে হোয়াইটওয়াসের লজ্জা পেতে হবে তাদের। যেটা বিশ্বকাপের আগে তাদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাবে স্বাভাবিক ভাবেই।
