দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি এখনো ফেরেনি। এতে এক দিকে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ বাড়ছে না, অন্যদিকে আগে যেসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছে সে সব টাকাও ফেরত পাচ্ছে না ব্যাংক। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়ছেই। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে মোট খেলাপি ঋণ ৫৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা তিন মাস আগের তুলনায় ছয় হাজার কোটি টাকা বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে— আগের প্রান্তিক জুন শেষে মোট চার লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। আর গেল সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট চার লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয়েছে।
খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিছুটা কমলেও এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসেনি। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের বেগতিক অবস্থা। দেশের শিল্প কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এখনো বিদ্যমান। এ সব কারণে বিনিয়োগ বাড়ছে না। অন্য দিকে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা আমদানি কম হওয়াসহ ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হওয়ার জন্য যেসব কারণ রয়েছে, সেগুলোর সবগুলোই এখন বিদ্যমান। এ অবস্থায় প্রভিশন ও পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণের পরে মুনাফা করাটা কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
