সাভার আওয়ামী লীগে বিভক্তি বাড়ছে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৪, ০১:০৮

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থানীয় নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের নেতারা কেউ কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। অনেক নেতা প্রকাশ্যে অপর নেতাকে প্রতিপক্ষ বিএনপির সাথে আঁতাতকারী বলেও প্রচার করছেন। বিগত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানের ভাইস চেয়ারম্যান ৩টি পদই হাতছাড়া হওয়ার পেছনেও রয়েছে নিজেদের অভ্যন্তরীণ শীতল যুদ্ধ। ফলে এখানে এ অবিশ্বাসের কারণে ক্রমেই আওয়ামী রাজনীতিতে দ্বিধা বিভক্তি ও সাংগঠনিক কাঠামো নড়বড়ে হচ্ছে বলে একাধিক নেতা-কর্মী আশংকা প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীকে কোণঠাসা করে রাখার কারণে এবং যথাযথ মূল্যায়ন না করায় তারা রয়েছেন নিষ্ক্রিয়। সভা সমাবেশে হাজিরা দেয়া ছাড়া তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তেমন দেখা মেলে না।

এক সময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত সাভার আসনে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত শামসুদ্দোহা খান মজলিশের মৃত্যুর পর সাভার আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শিল্পপতি হাসিনা দৌলা। তিনি কাউন্সিলের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। নিজের শ্রম, অর্থ ও সাংগঠনিক তত্পরতা দিয়ে তিনি দলের হাল ধরে রাখেন। জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন বাধার মুখেও হাসিনা দৌলা নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করে সভা-সামাবেশ, রাজপথে মিছিল করে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে তাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়।
এক সময় সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবিবের দলীয় কর্মকাণ্ডে ব্যাপক অবদান থাকলেও তিনি রয়েছেন কোণঠাসা। একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল কান্তি দাসও রয়েছেন উপেক্ষিত। উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনকেও কোন সভা সমাবেশে দেখা যায় না। সাভার উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন আগামী ডিসেম্বরে। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্যে পৃথকভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত রয়েছেন।
আগামী ২২ নভেম্বর পৌর আওয়ামী লীগের ও ২৪ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এ কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে পদ প্রত্যাশীরা লবিং লিয়াজোঁ অব্যাহত রেখেছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বর্তমান সভাপতি মিসেস হাসিনা দৌলা ও সংসদ সদস্য ডাঃ এনামুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার ও সাবেক ছাত্র নেতা মঞ্জুরুল আলম রাজীবের নাম শোনা যাচ্ছে।
পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি মোঃ আব্দুল গনি, সাবেক পৌর কমিশনার মোঃ হোসেন আলী, চন্দন কুমার সাহা, এম নজরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম শেষ পর্যন্ত সভাপতি প্রার্থী হতে পারেন বলে তার এক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কৃষক লীগ নেতা সৈয়দ সাগিরুজ্জামান শাকিকের নাম জোরেসোরে উচ্চারিত হচ্ছে। এছাড়া পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মোল্লার নামও রয়েছে।