রাবি শিক্ষক শফিউল হত্যার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন চলছে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৪, ১৪:৪৯
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলামকে (৫০) প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতির আহ্বানে রবিবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শনিবার রাতে নগরীর মতিহার থানা পুলিশ দুই জনকে আটক করেছে। কিন্তু পুলিশ আটকদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক পেজে ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ ২’ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন ক্লাসে ছাত্রীদের বোরকা পরা নিষিদ্ধ করার জন্য শফিউল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য পেলেই তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে রবিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর কামরুল হাসান মজুমদার জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভর্তিচ্ছুদের দুর্ভোগ বিবেচনায় শুধু প্রথম বর্ষে ভর্তির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমার পাণ্ডে জানান, শিক্ষক সমিতির আহ্বানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলছে। শফিউল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে বেলা ১১টায় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ক্যাম্পাসে শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শোক র‌্যালিতে প্রগতিশীল শিক্ষকসমাজ এবং অন্যান্য মতাদর্শের শিক্ষক-কর্মচারীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। এছাড়া প্রগতিশীল ছাত্রজোট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিক্ষক শফিউল ইসলামকে হত্যার প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসে শোক মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
অধ্যাপক শফিউল ইসলামের প্রথম জানাজা গতকাল রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাতেই তার লাশ গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার হিয়াতপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ ২’র দাবির বিষয়ে কোনো দায়িত্বশীল সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়নি। কথিত জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ ২’র পেজটির বয়স মাত্র ১৮ ঘন্টা।
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, আসলে কারা ওই পেজটি খুলেছে, তা এতো দ্রুত জানা সম্ভব নয়। মূল হোতাদের অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। আর তদন্তের স্বার্থে এখন খুব বেশি কিছু বলা যাবে না।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার বিকাল তিনটায় ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফেরার সময় নিজ ভাড়া বাড়ির অদূরে চৌদ্দপাই নামক স্থানে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর বিকেলে তার মৃত্যু হয়।