শালিসে গৃহবধূকে মারপিট, গর্ভপাত

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৪, ১৯:৩৮




বগুড়ার নন্দীগ্রামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রাম্য শালিসে মাতব্বররা এক গৃহবধূকে মারপিট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গর্ভপাত হয়েছে অভিযোগে মামলাও হয়েছে। পরে রবিবার ভোরে দুই মাতব্বর এবং ঐ গৃহবধূর শাশুড়ি-ননদসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া মাতব্বরদের মধ্যে একজন স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের দোপুকুরিয়া গ্রামের বাবু মিয়ার (২৮) সাথে চার বছর আগে একই ইউনিয়নের ফিচকা গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে আম্বিয়া খাতুনের (২২) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বাশুড়ী ও ননদ বিভিন্ন সময়ে আম্বিয়া খাতুনের শ্বাশুড়ী ও ননদ মিথ্যা পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তার উপর নির্যাতন করতো। এরই একপর্যায়ে আম্বিয়া গর্ভবতী হলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তার গর্ভের সন্তান অবৈধ দাবি করে তার শ্বাশুরি গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে নালিশ করে। সেই নালিশের প্রেক্ষিতে গত ১০ নভেম্বর রাত আটটার দিকে গ্রাম্য শালিশি বৈঠক বসানো হয়। বৈঠকে কোনো ধরনের তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই গৃহবধূকে চরিত্রহীন আখ্যা দিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে গ্রাম্য মাতব্বররা। এরপর গ্রাম শালিসেই সকলের সামনে তাকে বেদম মারপিট করা হয়। এতে আম্বিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১২ নভেম্বর তাকে প্রথমে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১৩ নভেম্বর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত সন্তান প্রসব করেন আম্বিয়া।

এরপর ঘটনা জানতে পেরে গত শনিবার রাতে গৃহবধূ আম্বিয়ার বাবা লুৎফর রহমান বাদি হয়ে চার গ্রাম্য মাতব্বর এবং আম্বিয়ার শ্বাশুরি ও ননদসহ মোট ছয়জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ১০/১৫জনকে আসামি করে নন্দীগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার ভোররাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২ গ্রাম্য মাতব্বর স্থানীয় ভরতেঁতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল (৫২) ও আফসার আলী (৫০) এবং  আম্বিয়ার শ্বাশুড়ী জাহানারা বেগম (৫০) ও ননদ আনার কলিকে (৩৫) গ্রেফতার করে।

নন্দীগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকিব ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে রবিবার বিকালে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।