প্রতারণার জালে সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৪, ০০:৪১

প্রতারণার জালে আটকা পড়েছে দেশের সাড়ে তিন হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে দশ লাখ শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষা সহায়তা দেয়ার নামে মাধ্যমিক পর্যায়ের এসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সোয়া পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছে একটি ভুয়া এনজিও। এই এনজিও’র নাম ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর সেকেন্ডারি এডুকেশন’। বিষয়টিকে প্রতারণা উল্লেখ করে এ ধরনের অপতত্পরতা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।জানা গেছে, ঢাকার পরিবাগের ৩/খ/৪ হোল্ডিং নম্বরের নক্সি সেন্টারের ৫ম তলা ওই এনজিও’র অফিস ঠিকানা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল রবিবার সরজমিনে গিয়ে পরিবাগে এ ধরনের কোন হোল্ডিং নম্বরের বাড়ির হদিস মেলেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবাগে ২/ক/১৪ নম্বরের হোল্ডিং পাওয়া যায়। এই বাড়ির নাম নক্সি প্লাজা। ন’তলার এই বাড়িটি সম্পূর্ণ আবাসিক। এর ম্যানেজার নাসির উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি পাঁচ বছর ধরে এ এলাকায় আছেন, আলোচ্য নম্বরের কোন হোল্ডিং তার চোখে পড়েনি। তবে তিনি জানান, প্রতিদিন নক্সি সেন্টারের খোঁজে অসংখ্য মানুষ আসে যায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবাগে ৩/খ/৪ নম্বরের কোন হোল্ডিং নেই। এদিকে ওই এনজিও’র পরিচালক হিসাবে অধ্যাপক এন এম এস উদ্দিনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে যেসব মোবাইল ফোন নম্বর দেয়া হয়েছে সেগুলোর সবই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। নম্বরগুলো হচ্ছে ০১৮৬৬৮০৬২৮২১ থেকে ৩ পর্যন্ত এবং ০১৬২৫১১৬৮৫০, ০১৬২৫১১৬৮৫৫ ও ০১৬২৫১১৬৮৬৫। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক শফিক উদ দৌল্লা জানান, বৃত্তি দেয়ার বিষয়ে ওই নামের কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডিজি অফিসের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর সেকেন্ডারি এডুকেশন’ এর ব্যানারে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে তারা শিক্ষার্থীদের মাসিক ৪০০ টাকা হারে অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা বলে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ৫০ টাকা ‘বিকাশ’ করার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভুয়া চিঠি পাঠাচ্ছে। এ ভুয়া চিঠিতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য ৩০ হাজার করে টাকা দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এটি একটি প্রতারণার উদ্যোগ। সরকারি কোনো সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কখনো কোনো অর্থ চাওয়া হয় না। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট ওই এনজিও ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি দেয়ার কথা বলে দেশের ২৫০ উপজেলার সাড়ে তিন হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায়। প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক এন এম এস উদ্দিনের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদানের জন্য বৈদেশিক সহায়তায় একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে চলতি বছর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হবে।

চিঠিতে প্রতি শিক্ষার্থীকে মাসিক ৪০০ টাকা হারে বৃত্তি দেয়ার কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। সঙ্গে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ পোস্ট অফিসের ই-মানি অর্ডার অথবা বিকাশের মাধ্যমে ৫০ টাকা করে পাঠাতে হবে। এ হিসাবে দেখা যায়, এভাবে ওই ভুয়া এনজিও প্রায় ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে  নিতে যাচ্ছে।