জিএসপি না পেলে টিকফা অর্থহীন: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:৫১
 
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি জিএসপি (অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা) সুবিধা না দেয় তবে টিকফা (ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক) চুক্তি অর্থহীন হয়ে পড়বে। তাই জিএসপি ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি। সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে ইউএস ট্রেড শো-২০১৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম্ব) সভাপতি আফতাব উল ইসলাম, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ এবং অ্যামচেম্বের নির্বাহী পরিচালক এ গফুরসহ দেশি বিদেশি উদ্যেক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমদ বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) কাজ শুরু করার পর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য উন্নত দেশের বাজারে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় কানাডাসহ বিভিন্ন উন্নত দেশ এ সুবিধা দিয়েছে। আমেরিকা এখন পর্যন্ত দেয়নি। উপরন্তু আমেরিকার বাজারে আমাদের পণ্যে উচ্চ শুল্ক রয়েছে। এদিকে আমরা আমেরিকার সাথে টিকফা চুক্তিও করলাম। এরপরও জিএসপি না পেলে টিকফা অর্থহীন হয়ে পড়বে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।
তোফায়েল আহমদ বলেন, আমেরিকা আমাদের রপ্তানির প্রধান বাজার। বিশেষ করে পোশাক খাতের জন্য এ বাজার খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতি সমপ্রতি আমেরিকার বাজারে আমাদের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য দেশগুলো আমেরিকার বাজারে যে কম শুল্কের সুবিধা পায় তাও নেই। ফলে আমাদের পণ্য অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। তাছাড়া কমপ্লায়েন্স ইস্যুর কারণেও কিছু প্রতিষ্ঠান চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানি করতে পারেনি। এত কিছুর পরও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে। আর স্বাধীনতার গোল্ডেন জুবিলীতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমেরিকাসহ অনেক দেশের বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসছে। সামনে আরও আসবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হবে বিদেশি বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত স্থান। সবশেষে তিনি বাংলাদেশীদের জন্য মাল্টিপল ভিসার মেয়াদ ৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছরে উন্নীত করার আহবান জানান।