শিক্ষক হত্যা

দ্বিতীয় দিনেও উত্তাল রাবি: ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৪, ১৯:০১
 
 
 
অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মত উত্তাল ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনসহ বেশকিছু কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্ত  মঙ্গলবারও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষকরা। এছাড়া সোমবার থেকে সাতদিন ব্যাপী কালোব্যাজ ধারণ শেষে আগামী ১৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি এবং ওইদিন বিকাল ৩টায় নগরীর সাহেব বাজারে মানববন্ধন করবেন রাবি শিক্ষকরা।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রবিবার রাতে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
অন্যদিকে অধ্যাপক শফিউল হত্যায় জড়িত সন্দেহে রবিবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ৩৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এনিয়ে গত দুই দিনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটকের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫০-এ। আটকদের মধ্যে জামায়াত-শিবির পরিচালিত ‘ইসলামিয়া কলেজে’র অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্রীও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সকলকে নগরীর মতিহার থানা এবং গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার বিকালে ১১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরা হলো- হুমায়ন কবির, আব্দুল­াহ আল মাহমুদ, মোশারফ হোসেন, ফজলুল হক, মশিউর রহমান, হাসিবুর রহমান, আরিফ, সাগর, জিন্নাত, রেজাউল করিম ও সাইফুদ্দিন।
অধ্যাপক শফিউল হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিকির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মঙ্গলবারও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদি কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার রাবি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, শিক্ষক সমিতি এবং মুক্তিযুদ্ধেও চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ১০টায় সিনেট ভবনের সামনের প্যারিস রোডে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানউদ্দিন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল, প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন মাতিন, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ইলিয়াছ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, অধ্যাপক মুন্সী মুনজুরুল হক, অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস প্রমুখসহ কয়েকশ’ শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, এ ধরনের হত্যার মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ অশান্ত করতে চায়। কিন্তু তারা তা করতে পারবে না। কেননা এদেশের শিক্ষক সমাজ ঐক্যবদ্ধ। তারা বলেন, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করতে অন্যথায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। আমরা বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে তাদের বিচার দেখতে চাই। এছাড়া বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়েল প্যারিস রোডে ড. শফিউল ইসলাম হত্যাকা্লের প্রতিবাদে মানববন্ধন করছে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কামরুল হাসান মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রণব কুমার পা্লেসহ সমিতির কার্যকরী পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এসময় বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ওয়ারদাতুল আকমাম এবং অধ্যাপক এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধনে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ওয়ারদাতুল আকমাম বলেন, আমরা শুধু প্রতিবাদই করছি না। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করছি। এদিকে রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম মজুমদার জানান, অপরাধীদের চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনতে আমরা প্রশাসনকে ১৫ দিনের সময় বেধে দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে যদি খুনিদের চিহ্নিত করে বিচার করা না হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
রাবি ছাত্রলীগের সড়ক অবরোধ : অন্যদিকে অধ্যাপক একেএম শফিউল হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে রাবি ছাত্রলীগ সোমবার ক্যাম্পাসের মেইন গেটের কাছে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। বেলা ১১টায় ২০ মিনিট ব্যাপী অবরোধ ও সমাবেশেরাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা এই নৃশংস হত্যাকান্ডের জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকার ভাড়া বাসার সামনে অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।