টেংরাটিলা পরিত্যক্ত কূপে গ্যাসের চাপ, উদ্বেগ,আতংক

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৪, ২১:২৭
 
টেংরাটিলার পরিত্যক্ত গ্যাস ক্ষেতেওর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আবারো বুদবুদ বেড়েছে। এতে টেংরাটিলা এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছেন ঐ এলাকার বিভিন্ন রাস্থাঘাটে। স্থানীয় প্রশাসন বিপদের আশঙ্কায় ঐ এলাকার দু‘টি পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে যেতে বললেও তারা সেখান থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি ছেড়ে যায়নি বলে এলাকাবাসী জানান।
মঙ্গলবার গ্যাসক্ষেত্র এলাকা পরিদর্শন করছেন বাপেক্সের এমডি মাহবুব সারওয়ার, সিলেট গ্যাস ফিল্ড এর কর্মকর্তাসহ সংস্লিষ্ট কয়েকজন বিশেষঞ্জরা।
বাপেক্সের এমডি বলেন,তিনি ঐরাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। 
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, টেংরাটিলায় আবারো বুদবুদ বাড়ার খবর শুনে তিনি টেংরাটিলা গ্যাস ক্ষেত্র ও গ্রাম পরিদর্শন করেছেন।
সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা গ্রামের মৃত হবিবুর রহমানের বসত ঘর ও আশপাশের বিভিন্ন এরাকায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং তা দিয়ে বুদবুদ আকারে কাঁদামিশ্রিত পানি বের হচ্ছে। তাই উপজেলা প্রশাসন ঐ এলাকার দু‘টি ঘরের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যেতে নিদের্শ দিয়েছে।
টেংরাটিলা দাবি আদায় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আজিম উদ্দিন মাষ্টার জানান, হবিবুর রহমানের বসতঘরের মতো পার্শ্ববর্তী হোসেন মিয়ার বসতঘরেও একই অবস্থা। তিনি আরো জানান গ্রামের রশিদ মিয়ার টিউবওয়েল থেকে অনবরত পানির সঙ্গে গ্যাস বের হচ্ছে। এছাড়াও গ্যাসক্ষেত্রের পাশের গ্রামের বিভিন্ন পুকুর, জমি, রাস্তা ও বাড়ি-ঘরের ফাটল দিয়ে গ্যাস বুদবুধ আকারে বের হচ্ছে। এ কারণে গ্রামের বৃদ্ধ ও শিশুরা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে।
গ্যাসক্ষেত্রের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান শামছুদ্দিন জানান, টেংরাটিলায় নাইকো বা বাপেক্সের কেউ থাকে না। বর্তমানে তার নেতৃত্বে ২৩ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন।
তিনি জানান, সিকুরেট প্রাইভেট লিমিডেট নামের এক কোমপানির মাধ্যমে তারা নাইকোর নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। গ্যাসক্ষেত্রটি সমপর্কে তাদের তেমন কোনো ধারণা নেই।
এর আগে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দু‘দফা বিস্ফোরণে গ্যাস ক্ষেত্রের প্রোডাকশন কূপের রিগ ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তখনকার দুই দফা বিস্ফোরণে গ্যাস ক্ষেত্রের মাঠির উপরে ও নীচে ভয়াবহ ক্ষতি হয়। ঐ সময় আশপাশের টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুরি ও শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও পরিবেশের ক্ষতি হয়। বিস্ফোরণের পর আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দিয়ে নাইকো তাদের সরঞ্জামাদি নিয়ে টেংরাটিলা থেকে চলে যায়।
পাকিস্তান আমলে গ্যাসক্ষেত্রটির কূপের গভীরতা ছিল প্রায় সাড়ে ৫ ফুট। কিন্তু ২০০৫ সালে নাইকো প্রায় ৩ হাজার ফুট গভীরে যেতেই দুর্ঘটনা ঘটে।