চট্টগ্রামে সড়কে রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বেড়েই চলেছে। সূত্র মতে, নগরীতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও প্রায় ৪ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলাচল করছে। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হাইকোর্টের আদেশ থাকায় পুলিশ বা বিআরটিএ কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আর এ সুযোগে প্রতিদিন নতুন নতুন ব্যাটারিচালিত ও সিএনজি অটোরিক্সা রাস্তায় নামানো হচ্ছে। আবার সড়কে ফিটনেসবিহীন অন্যান্য যানবাহনও চলছে প্রায় ৩০ হাজার। কিন্তু এসব গাড়ি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও পুলিশ বা বিআরটিএ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে পরিবহন সেক্টরে এক বিশৃঙ্খলা অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা যায়, গত এক বছরে চট্টগ্রামে রেজিস্ট্রেশনবিহীন প্রায় ৪ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা রাস্তায় নামানো হয়েছে। এসব গাড়িতে সংশ্লিষ্ট পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের স্টিকার ও ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বরও লাগানো রয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, ২০১৩ সালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে নতুন করে ৪ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অনেকেই সিএনজি অটোরিক্সা কিনেছে। কিন্তু পরবর্তীতে বিআরটিএ নতুন সিএনজির রেজিস্ট্রেশন না দেয়ায় বেকায়দায় পড়েন গাড়ির মালিকরা। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দেয়। পরে তারা এ ব্যাপারে হাইকোর্টে রিট করলে রেজিস্ট্রেশনবিহীন এসব গাড়ির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিতে আদালত প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের উপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পর পর আরো দুইবার বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ মেয়াদে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে রিটকারী জানান।
এ প্রসঙ্গে রিটের বাদি ও চট্টগ্রাম অটো টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর-রশিদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আমরা অনেকেই নতুন গাড়ি কিনেছি। রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেয়া না হলে আমরা ক্ষতিপূরণের মামলা করবো।’ এসব রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের অভিযোগ, গাড়ি প্রতি মাসে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা শ্রমিক সংগঠনগুলোকে প্রদান করতে হচ্ছে। তাদের থেকে টাকা দিয়ে টোকেন না নিলে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। তবে প্রতি গাড়ি থেকে ভর্তি ও মাসিক চাঁদা বাবদ ১ হাজার ৮০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে স্বীকার করেন শ্রমিক নেতা হারুন অর রশিদ।
রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সার ন্যায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় ৪০/৫০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিক্সাও চলাচল করছে। তারাও হাইকোর্টে রিট করলে আদালত সিটি কর্পোরেশন, ট্রাফিক পুলিশকে এসব রিক্সার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ ব্যাপারে রিটকারী ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন রিক্সা মালিক ফেডারেশনের সভাপতি সালামত আলী ইত্তেফাককে বলেন, ‘আদালতের আদেশের মেয়াদ আরো ৪ মাস বহাল থাকবে। মামলায় সিটি মেয়র, ডিসি ট্রাফিক, জেলা প্রশাসককে বিবাদি করা হয়েছে।’
এদিকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন এ ধরনের সিএনজি অটোরিক্সা ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার দৌরাত্ম্য সড়কে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি ও সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যাপারে বিআরটিএ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রোকন উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘হাইকোর্টের মামলায় শুনানিতে বিবাদিরা অংশ না নিলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়তে থাকবে।’ সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। দেশের কোন সচেতন ব্যক্তি রিটের বিরুদ্ধে আপিল করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’