ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক টানা ৫ কার্যদিবস পতনের পর বুধবার কিছুটা বেড়েছে। তবে সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। তথ্যে দেখা গেছে— ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ২৭ বেড়ে ৪ হাজার ৯২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএস-৩০ সূচক ১১ বেড়ে ১ হাজার ৮২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৭৬ কোটি ৩২ লাখ টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ৫১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা কম। লেনদেনকৃত ২৯৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৮টির, কমেছে ১০২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯টি কোম্পানির শেয়ারের। অপর দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১০৩ বেড়ে ১৫ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় ৬ কোটি টাকা কম। লেনদেনকৃত ২২৬টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৭টির, কমেছে ৮৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টি কোম্পানির শেয়ারের।
এ দিকে, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে শেয়ারবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি শাহজীবাজার পাওয়ারের শেয়ারের বিপরীতে ঋণসুবিধা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চলতি বছরের ১৫ জুলাই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৩০০ টাকারও বেশি বেড়েছে। লেনদেনের প্রথম দিনে ডিএসইতে এই শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম ছিল সাড়ে ৩৬ টাকা। আর গত সপ্তাহ পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ টাকা। অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ায় ঋণসুবিধা বন্ধের পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের জন্য স্পট মার্কেট বা নগদ লেনদেনের বাজারে স্থানাস্তর করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিএসইসি জানিয়েছে। বুধবার থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এ দিকে, তালিকাভুক্তির পর থেকে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশে গত ১১ আগস্ট থেকে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির লেনদেন স্থগিত করা হয়। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত ও বিশেষ নিরীক্ষা শেষে আয় বৃদ্ধি সংক্রান্ত অনিয়মের কারণে কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করা হয়। এরপর গত ২০ অক্টোবর কোম্পানিটির লেনদেনের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া হয়। ফের শুরু হয় কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে— কোনো ব্রোকারেজ হাউস কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে সীমার অতিরিক্ত ঋণ দিয়ে থাকলে তা তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেন-সংক্রান্ত তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জে পাঠাতে বলা হয়েছে।
