মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ২২ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মহেশখালীর মাতারবাড়ী এলাকার একেএম কায়ছারুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে গতকাল বুধবার বিকালে কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত। আগামী ২০ জানুয়ারীর মধ্যে মামলার তদন্ত কাজ শেষ করে তা আদালতে প্রেরণেরও চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মোস্তাক আহমদ জানান, মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে জেলা প্রশাসককে। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলম ও ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তাসহ ৯ জন সরকারী কর্মকর্তাকে আসামী করা হয়েছে। আসামীপক্ষের বাকীরা স্থানীয় লোকজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে বাস্তবায়নাধীন দেশের সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নামে ২৩ কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। এ ঘটনায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন ও সংঘবদ্ধ দালাল চক্র জড়িত। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে ভুয়া দলিল ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকল্পের ২৩ কোটি টাকা হরিলুটের তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়।
জানা যায়, ইতোমধ্যে আত্মসাৎকৃত এ টাকা উদ্ধারের জন্য মহেশখালীর মাতারবাড়ী দ্বীপের ২১ জনের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করেছে প্রশাসন। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে জেলা প্রশাসনের চার কর্মচারী ভূমি হুকুম দখল শাখার সাবেক প্রধান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদার, কানুনগো আবদুল কাদের, সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলাম ও বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা আরও তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন এ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘দেশের সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটির যাত্রায় জালিয়াতির ঘটনা আঁচ করতে পেরেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ যাদের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ বাচ্চু ও প্রকল্পের বিরোধিতাকারী হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম রফিক, স্থানীয় নূর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ সেলিম, নূরুল ইসলাম, আবুল বশর, রুহুল আমিন, সেলিম, জমির উদ্দিন, ছমি উদ্দিন, এরফান, আনিসুর রহমান, দানু মিয়া, হারুন, মীর কাসেম, রিদুয়ান, আমিনুল ইসলাম, ছকি আলম, জাহাঙ্গীর আলম ও আশরাফ আলী।
উল্লেখ্য, মাতারবাড়ীতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশের সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির জন্য এক হাজার ৪১৪ একর জমি হুকুম দখল করা হয়। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। জাপানি সংস্থা জাইকা এ প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থায়ন শুরু করেছে।
