"অবাঞ্ছিত" বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৪, ০১:৫২

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটায় রংপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ছাড়াও উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযোগ করা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে ২৭ জন প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা এর অনেক আগে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও তাঁদের পদমর্যাদা ও প্রাপ্য সুবিধাদি সিন্ডিকেট সভার দিন থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি নিরসনে গত ২৭ অক্টোবর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার মাধ্যমে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও উপাচার্য কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ কারণে উপাচার্যের সঙ্গে যাবতীয় কর্মকাণ্ডে অসহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২ নভেম্বর থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে সনদ জালিয়াতি করা ইমরান নামের একজন শিক্ষকের নিয়োগ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় প্রথম পাঁচটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁদের স্নাতক ডিগ্রি শেষ করলেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে উপাচার্য উদাসীন। ফলে এসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তর বিভাগের কোনো ক্লাস করতে পারছেন না। সেই সঙ্গে উপাচার্য বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে ঢাকায় অবস্থান করেন বলে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিন্ডিকেটের সভার দিন থেকে পদোন্নতির সব সুবিধা ভোগ করবেন। ইমরান নামের শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির জন্য গত ২৮ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন বলে জানান তিনি। পাঁচটি বিভাগের স্নাতকোত্তর ডিগ্রির নীতিমালা না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি নীতিমালা প্রণয়নে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগীয় প্রধানদের বারবার তাগাদা দিয়েছেন বলে জানান। ঢাকা যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাক্তিগত কোন কাজের জন্য নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কাজের জন্য ঢাকায় যান তিনি।