সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ সুমন রায় (২২) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন।
নিহত ছাত্রলীগ কর্মী সুমন রায় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও মহানগর ছাত্রলীগের বিধান গ্রুপের কর্মী। সংঘর্ষের ঘটনায় আরো দুইজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে অন্তত ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ। পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে প্রক্টর হিমাদ্রি শেখর রায়ও আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে এই ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে ছাত্রদের এবং শুকবার সকাল নয়টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলেও এই সময়ে পঞ্চম বর্ষে ভর্তির কার্যক্রম চলবে।
জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘন্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ চলাকালে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা দ্বিগবিদ্বিগ ছুটোছুটি করতে শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর পুলিশ রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্যাম্পাস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ গ্রুপের কর্মীরা আবাসিক হলগুলোর দখলের উদ্দেশে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাহপরাণ হল ও দ্বিতীয় ছাত্র হলের অর্ধশতাধিক কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এ সময় অঞ্জণ-উত্তম গ্রুপের কর্মীদের হল থেকে বের করে দেয় পার্থ গ্রুপের কর্মীরা। ধাওয়া খেয়ে ছাত্রলীগের অঞ্জণ-উত্তম গ্রুপের কর্মীরা হল থেকে বেরিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। পরে অঞ্জণ-উত্তম গ্রুপকে সহায়তা করতে বহিরাগত মহানগর ছাত্রলীগের বিধান গ্রুপের শতাধিক কর্মী ক্যাম্পাসে ঢুকে। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অঞ্জণ-উত্তম গ্রুপের কর্মীরা ক্যাম্পাসে পার্থ গ্রুপের কর্মীদের উপর হামলা চালায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উভয় গ্রুপ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে বলে ক্যাম্পাস সূত্র জানায়। সংঘর্ষে সুমন রায় (২২), খলিলুর রহমান ও অঞ্জন রায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পথে সুমন রায়কে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুস সালাম। এ সময় কাষ্মীর গ্রুপ হাসপাতালে ভাঙচুর করে। হাসপতালের দরজা জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। তারা সাংবাদিকদের ফটো তুলতে বাধা দেয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলেন ছাত্রলীগ কর্মী হুসাইন মোহাম্মদ সাগর ও আবদুস সালাম মঞ্জু, নজরুল, সেলিম, আহাদ ও মিজান। এদিকে এই ঘটনার পর বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরী বৈঠকে বসে। ভিসি অধ্যাপক আমিনুল হক ভূইয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরে গতকাল (বৃহষ্পতিবার) বিকেল ৪টার মধ্যে ছাত্রদের ও আজ সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেন শাবি কর্তৃপক্ষ। পরে বেলা আড়াইটার দিকে জরুরী সিন্ডিকেট সভা বসে। ঘটনা তদেন্ত এ সময় পর্যন্তর্ কোন তদন্ত কমিটি গঠিত হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থানকালে দেখা যায় এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। শাবির প্রধান গেইট বন্ধ। বাহিরে ও ভেতরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান করছিল। বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশি প্রহরায় ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি পরিবহন বাসে করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে দেখা গেছে। সম্ভবত: সংঘর্ষ বা অনাহুত পরিস্থিতি এড়াতে গাড়ী দুটি মূল শহরের দিকে না যেয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক দিয়ে বাইপস দিয়ে দক্ষিণ সুরমার দিকে চলে যায়।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
