মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’র ৩০ শতাংশ আসে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাত থেকে, এ তথ্য জানিয়ে ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা বলেছেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে এই খাতগুলোতে আরো জোর দিতে হবে। ব্যাংককে নজর দিতে হবে এসব খাতে অর্থায়নের দিকে, আর ব্যবসায়ীদের নজর দিতে হবে উৎপাদিত পণ্যের মানের ওপর।
শনিবার অনুষ্ঠিত ‘এসএমই খাতের উন্নয়ন: এসএমই সংগঠনের কার্যকরী ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর কাকরাইলে ইনষ্টিটউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিয়ার্স মিলনায়তনে যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, দেশের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রায় ৯৯ শতাংশ গড়ে উঠছে বেসরকারি খাতের উদ্যোগে। এখনকার মোট কর্মসংস্থানের ২৫ শতাংশ হচ্ছে এই খাত থেকে। আর শিল্পখাতের ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান হচ্ছে এসএমই খাতের মাধ্যমে। জিডিপিতে অবদান রাখছে ৩০ শতাংশ।
তিনি বলেন, সার্বিক বিবেচনায় এমএসএমই খাতের উন্নয়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নের ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করতে হবে। এটি করা গেলে, পণ্যের বিক্রি বেড়ে লাভবান হওয়া সম্ভব হবে। তিনি পণ্য গুদামজাতের সুবিধার্থে প্রতিটি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির আওতায় অন্তত একটি করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ছাড়া চলে এমন প্রাকৃতিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
সেমিনারে মহƒল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের ইন্ট্রিগ্রেটেড অ্যাসোসিয়েশন অব এমএসএমইর চেয়ারম্যান রাজিব চাওলা। তিনি বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এসএমই খাত। বাংলাদেশেও এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। এ খাতের টেকসই উন্নয়নে উৎপাদিত পণ্যের মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তার জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের এক সময়ের অতি ক্ষুদ্র খাত ছিলো তৈরী পোশাক। এখন তা বিশ্বের দ্বিতীয় রপ্তানিকারকের অবস্থানে পৌছেছে।
