জিম্বাবুয়ের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটা ছিল এক অর্থে মাশরাফি বিন মুর্তজার ফেরার ম্যাচ—অধিনায়ক হিসেবে ফেরা।
সেই ফেরাটা এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারতো! নিজে বল হাতে দুই উইকেট পেলেন, বড় এক জয় পেলেন। তবে মাশরাফি উইকেট বা জয়, কোনোটাতেই নিজের কোনো কৃতিত্ব দেখছেন না। তার মতে জয়টা প্রায় একাই উপহার এনে দিয়েছেন সাকিব। আর উইকেট ভাগ্য আর মুশফিকের চেষ্টা!
এমন করে নিজের সব কৃতিত্ব বিলিয়ে দেয়া মাশরাফির পক্ষেই সম্ভব।
তবে এভাবে কৃতিত্ব বিলিয়ে দিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে পারছেন না দেশসেরা এই পেসার। তার পরিষ্কার কথা, পরের ম্যাচ থেকে দলের এই অতি সাকিবনির্ভরতা কমাতে হবে। এক সাকিবের ভরসায় থেকে বাকিরা পারফরম করতে ব্যর্থ হলে তার কড়া মূল্য দিতে হতে পারে বলে নিজেদেরই সতর্ক করে দিয়েছেন দলের এই দ্বিতীয় দফা দায়িত্ব নেওয়া নেতা।
বাকিদের কৃতিত্ব দিয়েও মাশরাফি বলছেন, প্রথম ম্যাচটা আসলেই সাকিবের একটা ‘ওয়ান ম্যান শো’ ছিল, ‘একটা পর্যায়ে আমাদের ম্যাচটা একটু কঠিন হয়ে গিয়েছিল।
৩০ রানে ৩ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। ওই সময়ে প্রথমে মুমিনুল, তারপরে মুশফিক এবং সাকিবের অনেক বড় একটা জুটিতে আমরা এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলাম ম্যাচটা মোটামুটি আমাদের হাতে চলে এসেছিল। বোলিং শুরুতে আমরা ভাল করতে পারিনি। আবার সাকিব এসে ম্যাচটা আমাদের হাতে নিয়ে এসেছে। আসলে পুরো ম্যাচটাও একাই খেলেছে।’
সাকিবের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে তার বড় ভাই হিসেবে, অধিনায়ক হিসেবে যারপর নাই আহলাদিত মাশরাফি। কিন্তু এটাকে তিনি ভয়ের কারণও মনে করছেন। টপ অর্ডার ও বাকী বোলারদের সাকিবের পাশাপাশি কিছু করতে পারাটা জরুরী বলেই দাবি করলেন অধিনায়ক, ‘উন্নতি করার জায়গা অনেক—টপঅর্ডারে রান করতে হবে। শুরুতে যেমন খারাপ বল করেছি, এটা ইমপ্রুভ করতে হবে। সবসময় সবার মাথায় রাখতে হবে একটা ছেলের দিকে সব সময় তাকিয়ে থাকার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দলে যারা ১১ জন খেলে, তাদের সবাইকেই চেষ্টা করতে হবে দলের জন্য কন্ট্রিবিউট করার।’
এই জয়ের পর মাশরাফি যে একটু ভেসে যাচ্ছেন না, তার প্রমাণ নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও অসন্তুষ্টি, ‘আমার বোলিংও ভালো হয়নি। টেলরের উইকেটে আমার চেয়ে বড় ক্রেডিট মুশফিকের পাওয়া উচিত। যেভাবে গত কিছুদিন বোলিং করছিলাম, সেভাবে বোলিং করতে পারিনি। এগুলো ঠিক করতে হবে। ভাগক্রমে দুই উইকেট পেয়েছি। আমাদের তিন পেসারকেই আরও ভালো করতে হবে। এতে কোনো ছাড় নেই।’
দলের এই উন্নতিগুলোর পাশাপাশি আরেকটা চিন্তা মাশরাফির শুরু থেকেই আছে—শিশির। ভাগ্যক্রমে প্রথম ওয়ানডেতে শিশির খুব একটা না ভোগালেও এই চিন্তা মাথায় রেখেই খেলছেন তারা, ‘একটা ভালো ব্যাপার যে, পরের ম্যাচটা মনে হয় একঘণ্টা এগিয়ে নিয়ে আসা হবে। প্রথম ম্যাচের কথা বললে বলব আমরা খুব ভাগ্যবান সেদিন শিশির ওইরকম পড়েনি।’
মাশরাফি দলের খেলোয়াড়দের রীতিমতো সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা জয় আসছে বলে কোনোরকম ভারমুক্ত আচরণ করাটা চলবে না। দলে যারা থাকবেন, তাদের সিরিয়াস হতেই হবে, ‘আমরা সে অবস্থায় থাকা দল নই যে, আমরা রিল্যাক্স হয়ে যাবো। হ্যা, সিরিজ জিতলে হয়তো কেউ কেউ বিশ্রাম পাবে। তবে যারা মাঠে নামবে, তাদের সিরিয়াস হতেই হবে। আর সবাই এটা মনে রাখলেই চলে যে, এগুলো আর্ন্তজাতিক ম্যাচ। যে যা করবে, তার নামের পাশে যোগ হবে। হ্যা, অনেক সময় অনেকে একটু অসতর্ক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমাদের সিনিয়ার খেলোয়াড়দের ভূমিকা রাখতে হবে। অধিনায়কেরও কিছু করার থাকে এ অবস্থায়। আমি বলছি, এখন এসব রিল্যাক্স হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সামনে বিশ্বকাপ। কোন সুযোগই নেই।’
