পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রভাকরপাড়া গ্রামে শনিবার পুলিশের পরিচয়ে এক বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অপর এক বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে। ডাকাতদলের অস্ত্রাঘাতে নিহত হয়েছেন এক গ্রামবাসী। এলাকাবাসী এক ডাকাতকে আটক করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে একটি সাটার গান, দুই রাউন্ড গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা ও একটি মোবাইল সেট। ডাকাতদল নগদ ২০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন সেট, স্বর্ণালঙ্কারসহ দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। অস্ত্রাঘাতে নিহত হলেন প্রভাকরপাড়া গ্রামের মৃত আহের প্রাং’র ছেলে মজিবর রহমান (৩৫)। তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাবার পথে মারা যান। আটক ডাকাত হলেন, পাবনার সুজানগর উপজেলার তাতীবন্দ গ্রামের আজিজ মোল্লার ছেলে শুকুর আলী মোল্লা (৩৮)।
ডাকাতির শিকার হওয়া পরিবারের সদস্য ও পুলিশ জানায়, শনিবার গভীর রাতে একদল ডাকাত প্রভাকর পাড়া গ্রামের মজিবর রহমানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ইব্রাহিম প্রাং’র বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুলিশের পরিচয়ে ভিতরে ঢুকে। ডাকাতদল পরিবার সদস্যদের মারধর করে বেঁধে রাখে। পরে ডাকাতদল ওই বাড়ি থেকে অর্থ, মুঠোফোন ও সোনার গয়না লুট করে পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে বাড়ির লোকজন ও নিহত মজিবরের চিৎকারে গ্রামবাসী বেরিয়ে এলে ডাকাতরা ফাঁকা গুলি করে ত্রাস সৃষ্টি করে। গ্রামবাসী ডাকাতদলকে ঘিরে ফেললে গুলি করে ও মজিবরকে কুপিয়ে জখম করে রেল লাইন ধরে চলে গেলেও শুকুর আলী নামের এক ডাকাতকে গ্রামবাসী আটক করে গণধোলাই দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ডাকাতকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়। পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি সাটার গান, রাউন্ড গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা ও একটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয় । আহত মজিবরকে ঢাকা নিয়ে যাবার পথে মারা যান। আহত ডাকাত শুকুর আলী নিজেদের কথিত চরমপন্থি বাহিনীর সদস্য হিসেবে দাবি করেছে।
একই রাতে ১০-১৫ জনের একদল ডাকাত পাশের বেজপাড়া গ্রামের উষা গমেজের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা করে। তখন বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করলে পুলিশের টহল দল ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। এ সময় ডাকাতদল পালিয়ে যায়।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার বলেন, ‘পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে যায় এবং অস্ত্র উদ্ধার করে। আটক ডাকাতকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আশা করি অন্যদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’
