নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ-সান্তাহার রোডের রেজিস্ট্রেশন বিহীন ডা. সুলতানা জাহান ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জহুরা বেগম (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে ঐ প্রসূতির মৃত্যুর পর স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে নওগাঁ সদর থানার এসআই আব্দুল মান্নান তিন লাখ টাকায় ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত জহুরা বেগম নওগাঁ সদর উপজেলার নতুন শাহাপুর গ্রামের মিঠুর স্ত্রী।
অভিযোগে জানা গেছে, সকালে প্রসূতি জহুরা বেগমকে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যায় ক্লিনিকের মালিক ডা. সুলতানা জাহান নিজেই সিজার করেন। এর পরপরই জহুরা বেগম ও নবজাতকের মৃত্যু হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় বোয়ালীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ ও এক বিএনপির প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে নেতৃত্বে এসআই আব্দুল মান্নানের দফায় দফায় বৈঠক শেষে তিন লাখ টাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে।
বায়ালীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ জানান, জহুরা বেগমের স্বামী মিঠুকে তিন লাখ টাকা দিয়ে আপোষ করা হয়েছে। তবে তিনি রেজিষ্ট্রেশনবিহীন এই ক্লিনিক ও ডাক্তারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
এসআই আব্দুল মান্নান জানান, কোনো বাদী না থাকায় লাশ নিহতের পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
জানতে চাইলে নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি জাকিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রসূতির মারা যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে নওগাঁ সিভিল সার্জন মোজাহার হোসেন বুলবুল জানান, জহুরা বেগম মারা যাওয়ার ঘটনাটি জানা গেছে। বুধবার সকালে ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করে সিলগালাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
