এখনই সন্তুষ্টির কোন সুযোগ নেই : মাশরাফি

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৪, ২১:৪০
 
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন যে এত তাড়াতাড়ি সন্তুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। 
মঙ্গলবার মিরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে  অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকেটি ম্যাচ জিততেই এসেছি। কালকের ম্যাচ আমাদের জিততে হবে। কালকের ম্যাচ জিতলে আমাদের জন্য সিরিজটা সহজ হয়ে যাবে। তবে কেউই চাইবে না হারতে। আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবো। সিরিজ জয়ের অনুভুতি অবশ্যই ভালো। যদি জিততে পারি তাহলে অবশ্যই ভালো লাগবে। অধিনায়ক হয়ে যতটুকু লাগবে তার চেয়ে বেশি হচ্ছে, সিরিজ জেতা এই মুহূর্তে আমাদের খুবই দরকার। বিশেষ করে এই বছরের প্রেক্ষাপটে এই সিরিজ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিততে পারলে খুব ভালো হবে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে। বিশ্বকাপে আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেতে পারবো। 
এক প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘যেখানে আমরা ভালো সেখানেও উন্নতির অনেক জায়গা আছে। আমি যদি ধারবাহিকতার অভাবের কথা বলি, তাহলে বলব, প্রথম দিন টপ অর্ডার ভালো করেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে, ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন হয়েছে, তবে আমরা মিডল অর্ডারে ভালো করিনি। বোলিংয়েও একই কথা। ফিল্ডিংয়ে হয়েছে, অতীতে আমরা এর চেয়ে ভালো করেছি। এর চেয়েও ভালো করা সম্ভব। উন্নতি প্রতিটি জায়গায় করা সম্ভব। সেটা না করতে পারলে বিশ্বকাপ খুব কঠিন হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা ম্যাচই নতুন ম্যাচ। সবকিছুই নতুন করে শুরু করতে হবে, প্রথম থেকেই ভাল খেলতে হবে। অবশ্যই নতুন ভাবে শুরু করতে হবে। কারণ দুই দিনের একটা গ্যাপ গিয়েছে। আবার নতুন একটা ম্যাচ এসেছে, এটিকে গুরুত্বসহকারে নিতে হবে এবং নতুন করে শুরু করতে হবে।’
মাশরাফি বলেন এত তাড়াতাড়ি নির্ভার হবার সুযোগ নেই। এটা থাকাটা হবে অপেশাদারিত্ব। টেস্ট সিরিজ খেলার পর অবশ্যই খেরোয়াড়রা একটু ক্লান্ত হয়েছিল। তবে মাঝ পথে বিরতি পাওয়ায় সেটি কাটিয়ে ওঠেছে। এখনো কোন ক্লান্তি থাকলে সেটা কাটিয়ে ওঠতে হবে। 
সবাইকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আমার মনে হয় নির্ভর হবার কোন জায়গা এখনও নেই। কেননা এখনও আমরা সিরিজ জিততে পারিনি। প্রত্যেকটা দিনই উন্নতির জায়গা আছে। এখনও আমার মনে হয় না আমরা খুব ধারাবাহিক। ২টা ম্যাচে খেলেছি। অনেক জায়গা আছে যেখানে আমরা ভুল করছি। হয়তো একজায়গা আছে আজ ভাল করছি কাল আবার খারাপ করছি। ভাল করার ধারাবাহিকতা বাড়াতে হবে। যখন একটা দল চাপে থাকে তখন তাদের সঙ্গে খেলে ধারাবাহিকতা বাড়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এক প্রশ্নের জবাবে টাইগার দলপতি বলেন ব্যাটিং অর্ডার স্বাভাবিক যেমন আছে, তেমনই থাকবে। এই ক্ষেত্রে ফর্মে থাকার কারণে সাকিবকে এগিয়ে আনার চিন্তা করা হয়েছিল যাতে তিনি বেশী ওভার খেলতে পারে। একটি দলের জন্য এটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন সেটি করা হবে না। সাধারণভাবে মোমিনুল তিন নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলছে এবং খেলবে, সাকিব পাঁচেই খেলবে। 
আমাদের চিন্তায় ছিল, দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানদের আমরা যদি বেশিরভাগ ওভার নাই দেই, সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় দলের জন্য একটা বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। মূল ব্যাটসম্যানরা যদি বেশিরভাগ ওভার খেলতে না পারে তাহলে আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে না। নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনা না করে ব্যাটিং লাইন পরিবর্তন করা হয় না। আর তার নিজের কাছে যদি ভালো লাগে তাহলেই তা করা হয়। আগের ম্যাচে ব্যাটিং পরিবর্তনটাও আলোচনার পরেই হয়েছে। সাকিব মূল খেলোয়াড়, তার সাথে আলোচনা না করে কখনো এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না।
তিনি বলেন, উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা যদি বড় ইনিংস খেলে, অর্থাৎ ২৫ বা ৩০ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পারে তখন সাকিব যদি পাঁচে যায়, আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। হয়তোবা ১০ ওভার বা ৮ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাবে। তাই মূল ব্যাটসম্যানকে এত পরে খেলানো আসলে চিন্তার ব্যাপার। 
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, চট্টগ্রামের উইকেটে স্পিনারদের ভাল সময় কেটেছে। 
কিন্তু আমার মনে হয় মিরপুরের উইকেটটা বেশি উঁচু-নিচু টার্ন বাউন্স বেশি করে। এক্ষেত্রেও স্পিনারদের রোলটা বেশি থাকবে। তবে স্পিনাদের উইকেট হলেও পেসারদের ওখানে অনেক কাজ থাকে। যেগুলো স্পিনারদের আরও আক্রমণাত্মক হতে, উইকেট পেতে সাহায্য করে। এই রোলটা সব সময় প্লে করতে হবে।
মিরপুরে উইকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে শিশিরটা দেখতে হবে। চট্টগ্রামের ঘাস আর এখানের ঘাস এক না। বল কি অবস্থায় থাকবে। চট্টগ্রামের শেষ ম্যাচে প্রথমটার চেয়ে একটু বেশি শিশির ছিল। তাই সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছিল একটু বেশি। 
ম্যাচ পরিকল্পনা মোতাবেক ফর্মে থাকার কারণে সাকিব এবং মুশফিককে আমরা বেশি ওভারই দিতে চাই। যদি আমাদের ওপেনিং জুটিটা ভাল হয় তাহলে সাকিবকে আমরা চিন্তা করতেই পারি, এরকম ইনফর্ম ব্যাটসম্যান যদি আমাদের বেশিরভাগ ওভার খেলে তাহলে দলের জন্য সব সময়ই ভাল। সেই সঙ্গে মুশফিকও। তবে সিদ্ধান্তটা জেনে বুঝে নিতে হবে। যদি ওপেনাররা আগের মত ইনিংস খেলতে থাকে তবে সাকিব-মুশফিককে নিয়ে পরিবর্তনের একটা চিন্তা করা হবে।